‘জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিয়মের ভারসাম্য রক্ষা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১৮, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৬, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

বক্তব্য রাখছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে (২০১৭ সালে) সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দেশের জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস স্টাডিজ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বড় অবদান রাখে। কারণ, এটি দেশের জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু হঠাৎ মাঝরাতে বিদেশি একটি বড় জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করা শুরু করলে তখন প্রকৃত চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়।’

এই ভারসাম্য কখনও স্থিতিশীল ছিল না, বরং সব সময়ে পরিবর্তন হয়েছে, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর চাপ ছিল রোহিঙ্গাদেরকে উদ্বাস্তু হিসেবে ঘোষণা করার। কিন্তু আমরা সেটি করিনি। কারণ, উদ্বাস্তু হিসেবে ঘোষণা করলে তাদের জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ম প্রযোজ্য হয়ে যায়।’

এম শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা তাদেরকে মিয়ানমারের জনগণ হিসেবে অভিহিত করেছি। এর মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলেছি যে, তারা মিয়ানমারের অধিবাসী এবং তাদেরকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

বর্তমান সমস্যা-সংকুল ও বিপজ্জনক বিশ্ব সম্পর্কে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মনে করেন, বিশ্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের নতুন ধ্যান-ধারণা তৈরি করতে হবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সেন্টার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হচ্ছে গবেষণা করা এবং মানুষকে শান্তি সম্পর্কে জানানো।’

এম শহীদুল হক বলেন, ‘এই সেন্টার শিক্ষক, জ্ঞানী, গবেষকদের জন্য একটি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে সংলাপ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যার একটির সহলেখক এম শহীদুল হক এবং আরেকটি বই লিখেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম আহসান উল্লাহ।

/এসএসজেড/এপিএইচ/

লাইভ

টপ