বিএসএমএমইউতে ঢাবি শিক্ষার্থীদের হামলা, আহত ২০

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৪৫, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৭, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

 

 

বহির্বিভাগের টিকেট কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  তাদের হামলায় বিএসএমএমইউ’র কর্মকর্তা, আনসার, ড্রাইভার-কর্মচারীসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা লাঠি-সোটা নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিএসএমএমইউ’র ১টি অ্যাম্বুলেন্স, ১টি বাসসহ কমপক্ষে ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। হামলার ঘটনায় বিএসএমএমইউ’র পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়াস, সাব্বির, নাঈম ইসলাম, সাগর শাহরিয়ার নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহির্বিভাগের টিকিট চায়। এ নিয়ে পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা খালিদ হোসেনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এসময় বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ওই চার শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের (হাসপাতাল) কক্ষে নিয়ে যান। পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বিষয়টির সমাধান করে দেন। কিন্তু পরে ওই শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বের হয়ে সি ব্লকের সামনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনকে মারধর করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্যরত আনসার সদস্যসহ অন্যান্যরা এগিয়ে যান এবং ওই চার শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ঢাবির ২ জন সহকারী প্রক্টর ও জসিমউদ্দিন হলের ভিপি মো. ফরাদ বিএসএমএমইউতে আসেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশকেও অবহিত করা হয়।

পরবর্তীতে শাহবাগ থানা পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিএসএমএমইউ’র ও ঢাবি কর্তৃপক্ষ বসে। আলোচনা চলার সময় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাবির ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ ও ২নং গেট দিয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর করে। তারা বিএসএমএমইউ’র কর্মকর্তা, আনসার সদস্য, ড্রাইভার ও কর্মচারীসহ কমপক্ষে ২০ জনকে পিটিয়ে আহত করে। হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের প্রধান ফটকের কাচের দরজা ভেঙে ফেলে।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই চার শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। ঢাবি শিক্ষার্থীদের হমলায় আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমরা তথ্য নিচ্ছি, পুলিশকেও সঠিক তথ্য খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কোন পক্ষের অপরাধ, তা শনাক্তের কাজ চলছে। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, এরকম একটি খবর আমরা পেয়েছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি।

 

/জেএ/এনএল/এমআর/

লাইভ

টপ