মেলায় বইপ্রেমীদের ঢল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:২২, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৪, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

কর্মব্যস্ত সপ্তাহের শেষ দিনে অমর একুশে বইমেলা ছিল বইপ্রেমীদের দখলে। বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রতিটি প্রান্ত ছিল লোকে লোকারণ্য। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমনটি দেখা যায়। বৃহস্পতিবার বিকালে মেলার প্রবেশ দ্বার খোলার পর থেকেই শুরু হয় বইপ্রেমীদের পদচারণা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এই সংখ্যা। কেউ একা, কেউ দলবল কিংবা পরিবার নিয়েও মেলা প্রাঙ্গণে এসেছেন। অনেকে আবার মেলায় ফাল্গুনের রং ছড়াতে বেঁছে নিয়েছেন বাসন্তি রঙয়ের পোশাক। আবার অনেকেই মাথায় ফুলের টিয়ারা লাগিয়ে প্রাণের এই উৎসবে শামিল হতে এসেছেন।

এদিন বইমেলার শিশু চত্বরও ছিল প্রাণবন্ত। শিশুদের উল্লাসে উৎসবমুখর ছিল সেখানের পরিবেশ। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রাখা হয়েছে। এই কর্নারকে শিশুকিশোরদের বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এখানে শিশুদের জন্য আছে আলাদা খেলার জায়গা। রয়েছে সিসিমপুর মঞ্চ। ছুটির দিন শিশু প্রহরে এখানেই জমায়েত হয় শিশুরা। শিশুদের বই নিয়ে স্টল রয়েছে ৩৯টি। এসব স্টলে শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া, কবিতার বই ছাড়াও আছে চিত্র আঁকার সামগ্রী, খাতা, কালার বুক। এছাড়া শিক্ষামূলক কার্ডসহ নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে এসব স্টলে।

শিশুদের জন্য লেখা বইগুলোর স্টলেও দেখা গেছে ভিড়। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মেলার প্রথম ভাগে বিক্রি কম হলেও বিগত সপ্তাহ থেকে বিক্রি বেশ বেড়েছে। শিশুতোষ গ্রন্হের স্টল সিসিমপুরের ম্যানেজার ইকবাল জানান বিক্রি বেশ ভালো। 

শুধু শিশুদের বই নয়, মেলায় থাকা অন্যান্য স্টলেও বইপ্রেমীদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রিয় লেখকের বই নিতে এবং লেখকের সঙ্গে ছবি তোলার আগ্রহ পাঠকদের মধ্যে অনেক বেশি। উত্তরায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত হাবিব জানান, বইমেলায় আসার জন্য অফিস থেকে একটু আগেই বেরিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য মেলা থেকে প্রিয় লেখকদের বই কেনা। তিনি মেলায় আসা নতুন বই নিয়ে অনলাইনে বেশ ঘাটাঘাটি করেছেন। সেখান থেকে দেখে একটি তালিকাও তৈরি করেছেন হাবিব। মেলার শেষের দিকে এসেছেন বইগুলো কিনতে। 

অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান, নতুন বইয়ের মধ্যে কবিতার বইয়ের চাহিদা বেশি। তাছাড়া এবার কবিতার বই এসেছেও অনেক। এর পাশাপাশি ভিড় লেগে আছে হুমায়ূনপ্রেমীদের। মেলায় যে কয়েকটি স্টলে হুমায়ূন আহমেদের বই পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ভিড় দেখা গেছে। অন্যপ্রকাশের একজন বিক্রেতা জানান, হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের চাহিদা সবসময় বেশি, তাই বিক্রিও বেশ ভালো। 

এদিকে বাংলা একাডেমি জানিয়েছে বৃহস্পতিবার নতুন বই এসেছে ১৫৫টি। বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, শুক্রবার মেলা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে আর শেষ হবে রাত ৯টায়।  মেলায় ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর।

 

/এসও/এমআর/

লাইভ

টপ