‘এমন ক্যাম্পাস ঈদের সময়ও দেখিনি’

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ২৩:৪৮, মার্চ ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৮, মার্চ ২০, ২০২০




শিক্ষার্থী শূন্য ঢাবির মধুর ক্যান্টিন‘ওই মামা যাবেন? যাবো। টিএসসির দিকে চলেন।’ মামা, ভাড়া কেমন পাচ্ছেন—এই প্রশ্নের উত্তরে রিকশাচালক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কেউ নাই মামা’, ‘ভাড়া পাচ্ছি না, আজ ১০ বছর এই এলাকায় রিকশা চালাই, এমন ক্যাম্পাস কোনও দিন দেখিনি, এমনকি ঈদের সময়ও না।’ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক থেকে টিএসসি যাওয়ার পথে এই রিকশাচালকের সঙ্গে এসব কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ব্যস্ত এই ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রিকশায় বহন করে ডাল-ভাত খাওয়ার অর্থ জোগান যারা, এখন তারা ছাড়া ক্যাম্পাসে কেউ নেই। পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা পড়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি থাকে বহিরাগত মানুষের আনাগোনা। এখন করোনা পরিস্থিতিতে সে দৃশ্য পাল্টে গেছে। ইতোমধ্যে করোনা প্রতিরোধে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে ক্যাম্পাস ছাড়তে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাকিম চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, মধুর ক্যান্টিন, স্মৃতি চিরন্তন চত্বর, বিভিন্ন হল, কোথাও কেউ নেই। অন্য সময় এসব স্থানে শিক্ষার্থীরা জমাতেন প্রাণবন্ত আড্ডা।

ঢাবির টিএসসি এলাকাঅন্য সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি হলেও হলগুলোতে থাকতে দেখা যেতো শিক্ষার্থীদের। চাকরির প্রস্তুতি নিতে ঈদের সময়ও অনেকে হল ছেড়ে যেতেন না। এসব উৎসবে যারা হলে অবস্থান করতেন তাদের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতেন হল প্রশাসন। কিন্তু এবার করোনা আতঙ্কে ইতোমধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। হলগুলোতে এখনও যেসব শিক্ষার্থী রয়েছেন তারাও দু-একদিনের মধ্যেই হল ছাড়বেন বলে জানা গেছে।

ঢাবির কলা ভবনএদিকে আজ জরুরি সিন্ডিকেট সভায় আবাসিক হলগুলো শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা ৬টার আগেই হল ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 

ঢাবির জসিম উদ্দিন হল মাঠের ছবিতবে এখনও যারা হলে অবস্থান করছেন তারা হল বন্ধ করার পক্ষে না। চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মিফতু মনি হক মৌ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের হলগুলো প্রায় এখন ফাঁকা। আমি রুমে একা থাকায় নিরাপদে রয়েছি। কিন্তু এই মুহূর্তে যদি হল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে হবে। বাড়ি যেতে ছয় ঘণ্টা বাসে সময় পার করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে অন্য মানুষের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হল বন্ধ করে দেওয়া উচিত হচ্ছে না।’

ঢাবির হাকিম চত্বরটিএসসিতে এসে কথা হয় আরেক রিকশাচালক জুয়েল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, পুরো ক্যাম্পাস ফাঁকা। কোনও ভাড়া পাচ্ছেন না তিনি। শুধু ক্যাম্পাস নয়, পুরো রাজধানীতে একই অবস্থা। তিনি সকালে মিরপুর-১ থেকে ভেঙে ভেঙে ভাড়া নিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছেন। মাত্র ৭০ টাকা আয় করেছেন বলে জানান। শুকনো মুখে বলেন, ‘দেশে নাকি করোনাভাইরাস এসেছে। সবাই দেখছি বাড়ি চলে যাচ্ছেন। আর যারা আছেন তাদের মুখে কালো কাপড় (মাস্ক) দেখছি। আমি এগুলো ব্যবহার করি না। এগুলো লাগালে আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, বাড়ি যাবো না। আমি তো রিকশা চালানো ছাড়া অন্য কোনও কাজ করতে পারি না। যত কষ্টই হোক, ঢাকায় থাকা ছাড়া আমার উপায় নেই।’

/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ