করোনার প্রভাব: ঢাকার বাতাসে দূষণ কমেছে

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৯:১৬, মার্চ ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৫, মার্চ ২৩, ২০২০

করোনাভাইরাস আতঙ্কে দিন কাটছে রাজধানীবাসীর। এরমধ্যে শাপে বরের মতো ঢাকায় বাতাসের দূষণ অনেক কমে গেছে। করোনা আতঙ্কের কারণে যান চলাচল, কনস্ট্রাকশন কাজ কম হওয়ার কারণেই বাতাসের দূষণ অনেক কমে গেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’-এর বায়ুমান সূচক (একিউআই) ইনডেক্সে ১৮ নম্বরে নেমে এসেছে ঢাকা। বিকালেও ঢাকার অবস্থান ছিল ১৯-এ। যেখানে গত ছয় মাস ধরেই দিনের বেশিরভাগ সময় প্রথম স্থান দখল করে ছিল ঢাকা। সূচক ৩৯১ পর্যন্ত উঠেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০০-এর উপরে গেলে তাকে দুর্যোগ অবস্থা বলে। কিন্তু রবিবার সেই সূচক নেমে হয়েছে মাত্র ৮৫।

করোনা সংক্রমণের কারণে মানুষের চলাচল কমেছে। এছাড়া সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ। আদালতের কার্যক্রম সীমিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করায় মানুষের যাতায়াত কমছে। এছাড়া করোনা আতঙ্কে ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছেন অনেকে। ফলে ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। সরকারের তরফ থেকেও বলা হচ্ছে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যেতে। পরিবহনের ধোঁয়া নেই বললেই চলে। আর এতে বাতাসে দূষণের মাত্রা কমেছে।

বায়ুদূষণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। তিনি জানান, এখনও আমরা স্বাস্থ্যকর অবস্থায় আসিনি। মানুষ এত কমে যাওয়ার কারণে অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু আমাদের দেশের বাতাস স্বাস্থ্যকর হতে হলে সূচক হতে হবে ৫০-এর নিচে। তিনি বলেন, ছয় মাসে বহুবার আমাদের সূচক ৪০০/৫০০ পর্যন্ত উঠেছে। সে হিসাবে আমরা এখন অত্যন্ত ভালো অবস্থানে আছি।

বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কন্সট্রাকশন কাজ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ইটের ভাটা এবং আবর্জনা পোড়ানোর ফলে মূলত বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। এছাড়া যানবাহনের কারণেও দূষণ বাড়ে। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে এসব অ্যাক্টিভিটি কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় সবই কমে গেছে। তিনি বলেন, গতকালও আমরা এক নম্বরে ছিলাম। মূলত গতকাল রাত থেকেই বাতাসের দূষণ কমতে শুরু করে। গতকাল আমাদের সূচকের মাত্রা ছিল ১৭৮, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর। আজ এখন যে মাত্রা আছে সেটিকে আমরা বলতে পারি শুধু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়, এখন যা যা বন্ধ আছে সেগুলো বন্ধ রাখা গেলেই ঢাকার বাতাস ভালো রাখা সম্ভব। এখন কিন্তু ইটভাটাগুলো চালু আছে। কিন্তু তারপরও আজ আমাদের অবস্থান ভালো। আজ সবচেয়ে বেশি দূষণ হচ্ছে চীনের শহরগুলোতে। করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে তারা কাজে নামায় দূষণ বেড়ে গেছে।

/এসএনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ