অপরাধ কমলেও ফাঁকা রাজধানীতে ভিন্ন শঙ্কা

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ০৮:০১, মার্চ ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০১, মার্চ ২৯, ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঘরে থাকার নির্দেশনা কার্যকরের পর রাজধানীতে অপরাধ কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দুই দশকের যেকোনও সময়ের তুলনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় চুরি-ছিনতাই অনেক কমেছে। তবেআপাতত অপরাধ কমলেও ভিন্ন শঙ্কার কথা বলছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ১০ দিনের সাধারণ ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাটসহ অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ। এই সুযোগ নিতে পারে অপরাধীরা।

অবশ্য এমন আশঙ্কা থেকে পুলিশের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি) কমিশনার এ ব্যাপারে বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান শনিবার (২৮ মার্চ) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ‍দুই সপ্তাহে অপরাধের পরিমাণ একেবারেই কম। দুয়েকটা ঘটনা থানায় রেকর্ড হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই বা অন্যান্য ট্র্যাডিশনাল অপরাধ কমে এসেছে।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় সংঘবদ্ধ অপরাধীদের একটা বড় অংশ ঢাকা ছেড়েছে। আবার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমাদের পেট্রোলিং অনেক বাড়ানো হয়েছে। গলিতে গলিতে আমাদের টহল গাড়ি যাচ্ছে। ক্রস পেট্রোলিং হচ্ছে। এসব কারণে অপরাধীরা চাইলেই বের হতে পারছে না। এছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয় অপরাধীদের মধ্যেও রয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রমনা থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, ‘অন্যান্য সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি অপরাধের অভিযোগ আসতো। গত কয়েকদিনে তা নেই বললেই চলে।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত তিনদিনে আমরা অপরাধের কোনও অভিযোগ পাইনি। উত্তরা এলাকায় চুরি-ছিনতাই, টানাপার্টির কিছু অভিযোগ আগে পাওয়া যেতো, এখন তাও নেই।’

তিনি বলেন, চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িতরাসহ টানাপার্টির সদস্যরা সাধারণত সন্ধ্যার পর ও ভোরে অপরাধগুলো ঘটায়। কিন্তু করোনাভাইরাসসংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস ১০ দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। ফলে মানুষ বের হচ্ছে না। অপরাধও ঘটছে না।

তবে এ অবস্থার পরও ভিন্ন আশঙ্কা ‍উড়িয়ে দিচ্ছেন না ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের একাধিকদায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তারা বলছেন, বাড়িঘর ফাঁকা করে অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। কোনও বাসায় চুরি হয়েথাকলেও বাসিন্দারা ঢাকায় না থাকায় তা জানা যাচ্ছে না।

তবে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ কমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে। তারা ভয়ে বের হচ্ছে না। আবার কিছু অপরাধী সুযোগ খুঁজছে। কিন্তু আমরা তাদের কোনও সুযোগ দেবো না।’ পাড়া-মহল্লায় তাদের নজরদারি ও উপস্থিতি অন্য যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি বলে দাবি করেন তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, জনসাধারণকে ঘরে ফেরানোর পাশাপাশি অপরাধীদের চলাফেরা বন্ধ করতে রাজধানীতে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নগরীকে সুরক্ষিত রাখার এই প্রচেষ্টায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিনে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কম। তবে আমরা বসে নেই। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন মানুষ রাস্তায় বের না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন করছি। আবার যারা বের হচ্ছেন, তারা কেন বেরিয়েছেন তা জানার চেষ্টা করছেন আমাদের পুলিশ সদস্যরা।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন,‘অপরাধীদের মুভমেন্ট বন্ধ করতে পুলিশ কাজ করছে। সেই কাজে জনগণকে সহায়তা করতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে সে কাজটি করতে পুলিশ সদস্যদের বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’নাগরিকদেরও সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি কার্যকর হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন যেমন, খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধ কেনা, চিকিৎসা, মৃতদেহ সৎকার ইত্যাদি ছাড়া বাড়ির বাইরে না যেতে জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

/এইচআই/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ