স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, করোনাতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে কি আমরা খুশি হবো

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩৪, মার্চ ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪১, মার্চ ২৯, ২০২০

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘অনেকে বলছে, আমাদের দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এত কম কেন? সংখ্যা বেশি থাকলে কি আমরা খুশি হবো? বেশি বেশি লোক করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হোক আমরা কি সেটা চাই?’ রবিবার ( ২৯ মার্চ) কোভিড -১৯ নিয়ে আয়োজিত জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব প্রশ্ন করেন।

মন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে পত্রিকা-টেলিভিশনে অনেক কিছু দেখতে পাই,শুনতে পাই। অনেকে বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি ছিল না। আমরা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি, স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি, জাতীয়-জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি করেছি। যে কমিটির মাধ্যমে সব কাজ হচ্ছে, আমরা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করেছি, ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি এবং ডাক্তার-নার্সদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

কক্সবাজারে ল্যাব ফ্যাসিলিটি শুরু করার পর কোনও রোগী পাওয়া যায়নি মন্তব্য করে জাহিদ মালেক বলেন, টেস্টিং কিটসের বিষয়েও অনেক কথা কানে এসেছে। আমাদের কিটস আছে, অর্ডারও করা আছে। পিপিই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার পিপিই পাচ্ছি, সেগুলো বিতরণ করে যাচ্ছি। আর ইমপোর্টের জন্য অর্ডার দেওয়া আছে প্রায় পাঁচ লাখের মতো, যেগুলো এপ্রিলের মধ্যে চলে আসবে। কাজেই আমি মনে করি পিপিই নিয়ে শঙ্কা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল (শনিবার) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম, তাদের সঙ্গে বিশ্বের ১০টি দেশ ছিল। আমাদের কার্যক্রমে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে, জাতিসংঘও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের প্রায় প্রতিদিনই কথা হয়, তিনিও আমাদের নির্দেশনা দেন, প্রধানমন্ত্রীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন আড়াইশো ভেন্টিলেটর আছে, আরও তিনশর মতো আসছে। অনেক বড় বড় দেশেও এত ভেন্টিলেটর থাকে না।  আগে প্রস্তুতি নিয়েছি বলেই বাংলাদেশ ভালো আছে। ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থা কী, সেটা আপনারা জানেন। আমরা ভালো আছি, ভালো থাকতে চাই, পৃথিবীর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি আগে থেকে প্রস্তুতি নিতো তাহলে দেশের এই অবস্থা হতো না। প্রবাসীরা এসেছে, এটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। প্লেন কমানোর ক্ষমতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। যারা এখনও আসছে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই।

আগামী কয়েকদিন পর ছুটি শেষ হলে পরিস্থিতিতে কী করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমরা পর্যবেক্ষণ করবো। যদি  এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অবস্থা সহনশীল পর্যায়ে চলে আসে তখন এক ধরনের চিন্তা হবে। আর যদি সেটা না হয় তখন প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেবো পরিস্থিতি দেখে পদক্ষেপ নেওয়ার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন।

 

/জেএ/এমআর/

লাইভ

টপ