সড়কে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ২১:০৬, মার্চ ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৩, মার্চ ৩০, ২০২০

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি যত গড়াচ্ছে রাজধানীর রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা তত বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের এ ছুটির প্রথম ও দ্বিতীয় দিন প্রায় ফাঁকাই ছিল রাজপথ। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নাগরিক চলাচলে কিছুটা শিথিলতা ঘোষণার পর তৃতীয় দিন রবিবার (২৯ মার্চ) সাধারণ মানুষের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে।

অবশ্য ঘর থেকে এই বাইরে বেরুনোর কারণ ‘বিশেষ প্রয়োজন’। কেউ বের হচ্ছেন খাবার কিনতে, কেউবা বাজারে যাচ্ছেন। এদিন সীমিত পরিসরে কয়েকটি খাবারের দোকানও খোলা রাখতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সক্ষমতা অনুযায়ী সীমিতভাবে রেস্তোরাঁ খোলা রাখার কথা ভাবছে তারা।

শনিবার (২৮ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১০টি নির্দেশনা পাঠান। এতে বলা হয়, অনেক মানুষের রান্না-বান্নার ব্যবস্থা নেই, তাই তাদের জন্য খাবার হোটেল, বেকারি খোলা থাকবে। এসব হোটেল-বেকারিতে কর্মরতদের সড়কে চলাচল করতে দিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও অপরিহার্য পণ্যের দোকান খোলা থাকবে এবং এসব দোকানে কর্মরতরা কাজে যোগ দিতে পারবেন। হোটেল থেকে গ্রাহকদের খাবারের পার্সেল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে’ কেউ হোটেলে বসে খেতে পারবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় যেকোনও নাগরিক একা যেকোনও মাধ্যম ব্যবহার করে চলাফেরা করতে পারবেন বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

ডিএমপি থেকে এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা আসার পর রবিবার রাজধানীর রাস্তাঘাটে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। রাস্তায় উল্লেখযোগ্য হারে রিকশাও চলছে।

মিরপুর রোডে এক রিকশাচালকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, আজ অনেক মানুষই বের হচ্ছেন। এই কয়দিন নারীদের চলাফেরা না থাকলেও আজ অনেকেই বেরিয়েছেন বাজার করতে।

শিথিলতার ঘোষণা আসার পর কিছু দোকানও খুলেছে। সরেজমিনে ধানমন্ডির ৬ নম্বরে একটি ফাস্টফুডের দোকান খোলা দেখা যায়। দোকানটির ভেতর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য মেঝেতে দাগ কেটে দেওয়া হয়েছে। 

ধানমন্ডির বাসিন্দা রোকসানা জানান, এই তিন দিন ঘর থেকে বের না হলেও আজ তিনি বেরিয়েছেন। বাসার জন্য খাবার কেনার জন্য প্রধান সড়কের একটি কনফেকশনারিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, বাজারে তো আর সব কিছু পাওয়া যায় না। কিছু কিছু জিনিস যেমন ফ্রোজেন আইটেমগুলো নিতে কনফেকশনারিতে আসা।

ফার্মগেটে টিসিবি’র পণ্যবাহী গাড়ি দেখা গেলো। অবশ্য সামাজিক দূরত্ব মেনেই সেখানে দেওয়া হচ্ছে পণ্য। রাস্তায় নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়ানোর জন্য দাগ কেটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের মাস্ক বিতরণ করতেও দেখা যায়।

ডিএমপি থেকে নির্দেশনা আসার পর রেস্তোরাঁ সীমিত আকারে খোলা রাখার কথা ভাবছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সমিতির অফিসে বৈঠকে বসেছি। রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে আমরা একমত। কিন্তু আমাদের স্টাফরা তো গ্রামে চলে গেছে। তারপরও আমরা দেখছি কীভাবে খোলা রাখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘যারা যারা পারবেন তারা সীমিত আকারে খুলবেন।  পাশাপাশি আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনেই রোস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়েও ভাবছি।’

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শনিবারও নতুন রোগী ছিল না বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে পরপর দুই দিন দেশে নতুন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলো না।

/এইচআই/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ