স্বেচ্ছাসেবীদের নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে সেবা দেওয়ার আহ্বান

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ০২:৩০, মার্চ ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৩০, মার্চ ৩০, ২০২০

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সারাদেশে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধক সামগ্রীর পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ করছে এসব স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, যারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন, তাদের নিজেদের নিরাপত্তার কথাটাও ভাবতে হবে। তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা উচিত। কিন্তু সেগুলো তারা অনেকেই করছেন না। তাদের ঠিকভাবে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থাটিও নিশ্চিত করতে হবে। এটা সাধারণ কোনও মহামারি বা দুর্যোগ নয়।

মোহাম্মদ ফায়েজ নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, গত ২৬ মার্চ পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তার জন্য তাদের সংগঠনের সদস্যরা রাজধানীতে বের হন। এ সময় তাদের সংগঠনের সদস্যদের একটি বাহিনীর সদস্যরা  বাধা দেন এবং তাদের বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য করেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের এমন বিচ্ছিন্ন অভিযোগ আরও রয়েছে।

তবে এর উল্টো পিঠে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছাসেবীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন বস্তি ও এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে।

সাইলেন্ট হ্যান্ডস সাপোর্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রথম প্রজেক্ট হিসেবে খাবারের একটি প্যাকেজ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গরিব মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। কাজে পুলিশের সহায়তা পেয়েছি। তবে তারা আমাদের কাছে প্রথমে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। তাদের  বিষয়টি বলতে হয়েছে। এরপর আমাদের কাজ করতে কোনও ঝামেলা হয়নি। আমরা কড়াইল বস্তিতেও চাল ডাল বিতরণ করবো। বনানী থানায় আমরা অনুমতি চেয়েছি। পুলিশ আমাদের অনুরোধ করেছে, খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় যাতে বস্তিবাসী এক জায়গায় জড়ো না হয়, সেই বিষয়টি মানতে হবে। আমরা সেভাবেই দেওয়ার চেষ্টা করবো। বাসায় বাসায় গিয়ে দিয়ে আসবো।’

সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের অপেশাদার আচরণের ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানীর আদাবরে মুদি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ‘ভালো ফল’ নামে একটি অনলাইন শপের একজন ব্যবসায়ী। পরবর্তী সময়ে তিনি অবশ্য তার দোকান নিয়মিত চালু রেখেছেন। আদাবরে তার দোকান। পাশাপাশি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তিনি অনলাইনেও অর্ডার নিয়ে থাকেন।

ব্যবসায়ী প্রবীর কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ বিকালে একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে দোকান বন্ধ করতে বলেন। তার হুমকি ধমকিতে আমি দোকান বন্ধ করি। কিন্তু আমার মুদি দোকান, এটা বন্ধের তালিকায় নেই। তারপরও পুলিশ আমার দোকান বন্ধ করে দেয়। পরে আদাবর থানায় আমার পরিচিত একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই।’

তবে পুলিশ অভিযোগ করেছে, স্বেচ্ছাসেবী যারা কাজ করছেন তাদের নিজেদের সুরক্ষা যথাযথভাবে নেই। তারা বিভিন্ন মানুষের কাছে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের সেভাবে প্রস্তুতি নেই। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া রয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ হবে। কেবল জরুরি সেবার সঙ্গে জড়িত যারা তারা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করবেন। স্বেচ্ছাসেবীদের নিজেদের সুরক্ষা করে মানুষের মধ্যে যেতে হবে। তা না হলে তারা বাধাপ্রাপ্ত হবে। সামাজিক দূরত্ব তাদের মানতে হবে।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পুলিশের সহযোগিতা যারাই চাচ্ছেন তাদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। মানুষের প্রয়োজন আমরা মেটানোর চেষ্টা করছি। পুলিশ বাহিনীকে সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া আছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এটা সাধারণ কোনও রোগ না। অতীতে যেসব রোগের প্রাদুর্ভাবে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করেছেন, এবার সেভাবে কাজ করতে পারবেন না। এখানে একজন স্বেচ্ছাসেবীর নিজের সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যের সুরক্ষার কথাও মনে রাখতে হবে। আমাদের কোনও ভুল করা চলবে না। সবাইকে বিষয়টি মনে রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবীদের অবশ্যই সুরক্ষিত হয়ে মানুষের সেবা করতে হবে।’

/টিএন/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ