সময় কমায় ভোগান্তি বেড়েছে সুপার শপের ক্রেতাদের

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০০:৪৪, এপ্রিল ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৪, এপ্রিল ০৮, ২০২০

দূরত্ব ঠিক রেখে ক্রেতাদের দাঁড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েছে মীনা বাজার

সুপার শপ খোলা রাখার সময় কমিয়ে দেওয়ার কারণে ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব দোকান খোলা থাকলেও সোমবারের বিশেষ নির্দেশের পরে এখন থেকে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করতে হবে। ফলে দিনে এখন আর কোনও পিক, অফ-পিক আওয়ার নেই, সারাদিনই ক্রেতাদের একইরকম চাপ রয়েছে বলে জানান সুপার শপগুলোর কর্মীরা। তারা বলছেন, লম্বা সময় খোলা থাকলে ক্রেতারা নিজেদের মতো সময় করে নিয়ে আসেন। এখন সময় কমে যাওয়ায় ভিড় হয়ে থাকার শঙ্কা আছে।

সুপার শপের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন সময় নির্ধারণের পর করোনাভাইরাস ঠেকাতে যে সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে, ক্রেতাদের মধ্যে সেই তিন ফুট ব্যবধান রাখতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। যদিও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সেটা নিশ্চিত করছেন। কিন্তু ক্রেতাদের লম্বা সময় দোকানের বাইরে লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে সাধারণ মুদি দোকান বা কাঁচাবাজারে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে একেবারেই দেখা যায়নি।

ক্রেতারা স্বপ্ন সুপার শপে প্রবেশের জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে লাইনে অপেক্ষা করছে

সোমবার এক নির্দেশে বলা হয়, এখন থেকে ফার্মেসি ছাড়া সব দোকান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। স্বাভাবিক সময়ে এটি রাত ১০টা পর্যন্ত ছিল।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা। ধানমন্ডি পুরনো ২৭ নম্বরে ফুটপাতে দেখা যায় লম্বা লাইন। ধীরে ধীরে এগোয়। দোকানের বাইরের কম্পাউন্ড ছাড়িয়ে ফুটপাত ধরে আরও দুই বিল্ডিং পার হয়ে গেছে লাইন। রাস্তার ঠিক উল্টো পাশে মীনা বাজারের সামনেও একই অবস্থা। একটু দূরে নন্দনের সামনে গিয়ে দেখা গেলো দোকানের বাইরে লাইন না থাকলেও ভেতরে বিল কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন।

২০ মিনিট ধরে শপের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ২৯ বছর বয়সী রেজওয়ান। সামনে দীর্ঘ লাইন থাকায় বাইরে চিহ্ন এঁকে দেওয়া জায়গাগুলো পার হন অল্প অল্প করে। এই উদ্যোগটাকে স্বাগত জানালেও শপ খোলা রাখার সময় কমানোর যুক্তি পান না তিনি। বলেন, বাইরে রোদে কষ্ট হয়। কিন্তু এই নিয়মটা খুব ভালো হয়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। সামাজিক দূরত্ব মানাটা খুব জরুরি। কিন্তু যদি হুট করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ না করে দেওয়া হতো তাহলে এতটা সময় নষ্ট হয় না। এখন এটুকু সময়ে সবাই এসে কাজ সারতে চায় বলে ভিড় লেগে থাকছে।

স্বপ্ন সুপার শপের সামনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করছেন নিরাপত্তা প্রহরী

হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক পরে একটি সুপার শপের মেইন গেটে ঢোকার সময় সিকিউরিটি গার্ডের দেওয়া স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেন ফেরদৌস আরা। তিনি বলেন, কাঁচাবাজারের নোংরা ঠেলাঠেলি এড়াতে আমরা সুপার শপগুলোর দ্বারস্থ হই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যত উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে এরা সবক’টিই মানছে। কিন্তু কেবল কয়েক ঘণ্টা বিক্রির সময় কমিয়ে দেওয়ার কারণে ভিড়টা বেড়ে গেছে। তাহলে তো সেই একই শঙ্কা দেখা দিলো। সামাজিক দূরত্ব মানতে পারবে না মানুষজন। সেটা তো আমাদের সবার জন্য ক্ষতি।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি সুপার শপে বাজার করতে আসা শামীম হাসান নামের এক ক্রেতা জানান, করোনা পরিস্থিতির এই সময়টায় সুপার শপগুলোই দূরত্ব বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বজায় রাখছে। আমরা যারা বিভিন্ন অফিসে কাজ করছি এখনও, তাদের জন্য বর্তমান নির্ধারিত সময়ে সুপার শপে এসে বাজার করে ঘরে ফিরে যাওয়া কঠিন। তাই আমার মনে হয়, সরকারের এই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সুপার শপগুলোর সময় আরও বাড়ানো উচিত।  

সময়সীমা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে যে নির্দেশনা পেয়েছেন সেটা মেনে চলছেন উল্লেখ করে সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ জানান, সময় কমিয়ে দেওয়ায় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত এক মাস ধরে বাংলাদেশের সব সুপার মার্কেট ক্রেতাদের সুবিধার্থে যেভাবে সম্ভব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছে। বিশেষ করে কর্মীরা যেন নিরাপদ থাকে সেজন্য তাদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিতে বাড়তি কাজ করেছি। দোকানে সব পর্যায়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে।

স্বপ্ন সুপার শপের আউটলেট ইনচার্জ আলাল হোসেন বলেন, কয়েকদিন গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই অনেক ভিড় ছিল। আমাদের বাড়তি এখন সতর্কতা নিতে হচ্ছে। এখন যেহেতু লকডাউন বেশিরভাগ জায়গায়, মানুষ জানে না কোথায় গেলে তারা সংক্রমণের শিকার হবে। ফলে তারা পরিচ্ছন্ন এবং ঝামেলামুক্ত জায়গায় যেতে চায়। সেখানে বিক্রির সময় কমিয়ে দেওয়াটা কতটা ঠিক সেটা নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মীনা বাজারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সালাউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা ছাড় দেবো না। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আউটলেট বন্ধ করার ঘোষণা আসার পর এখন সারাদিন ভিড়ের পরিমাণ একই রকম। অন্য সময় সারাদিনে এত ভিড় হতো না। ফলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সহজ হতো।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মীনা বাজারের সামনে অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা

সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, সব সুপার মার্কেটে চেষ্টা করা হয়েছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যেন দাম না বাড়ে। ৭টার মধ্যে আউটলেট বন্ধ করার নির্দেশও মেনে চলা হচ্ছে। কিন্তু সময় চার ঘণ্টা কমে আসায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা খোলা থাকলে ক্রেতারা সুবিধামতো সময়ে আসতে পারছিলেন। এখন এই কয় ঘণ্টার মধ্যে ওই একই পরিমাণ, বা কোনও কোনও সময় যদি আরও বেশি ক্রেতা আসছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সবসময় ভিড় থাকছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলবো।

/এমআর/এফএস/

লাইভ

টপ