এলাকায় এলাকায় স্বেচ্ছা লকডাউন

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ১১:৪০, এপ্রিল ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪১, এপ্রিল ১০, ২০২০

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ২২টি জেলায় করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩০জন। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই আছে সবচেয়ে বেশি  ১৯৬ করোনা রোগী। ঢাকার ৬১টি এলাকায় এসব রোগী পাওয়া গেছে। করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া এলাকা কিংবা বিল্ডিং লকডাউন করে দিচ্ছে  পুলিশ। এর পাশাপাশি করোনা থেকে বাঁচতে নিজেরাই বিল্ডিং কিংবা নির্দিষ্ট কোনও আবাসিক এলাকা স্বেচ্ছায় লকডাউন করছেন সেখানে অবস্থিত বাড়ির মালিকরা। রাজধানী ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে বেশ কয়েকটি এলাকায়।

নিজ নিজ বিল্ডিং এবং আবাসিক এলাকায় যাতায়াত সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বিল্ডিং মালিকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড ও স্যার সৈয়দ রোড এলাকার বাড়ির মালিকরা তাদের এলাকায় যান চলাচল সীমিত করেছে। এই এলাকার প্রবেশপথ ৬টি থাকলেও ৫টি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মোহাম্মদপুর পোস্ট অফিসের পাশের গেটটি এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে খোলা রাখা হয়েছে। বন্ধ প্রতিটি গেটে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে গেটটি সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে, পোস্ট অফিসের নিকট ২ নম্বর গেট ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো। এর পাশাপাশি ২ নম্বর গেটে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে দেওয়া আছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং স্প্রে। তারা এলাকায় প্রবেশকারী রিকশাচালক এবং সাধারণ মানুষদের স্প্রে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেন।

ইকবাল রোডের ২ নম্বর গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী রিপন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এলাকার বিল্ডিং মালিকদের সিদ্ধান্তে গেট সব বন্ধ করা হয়েছে। শুধু একটি গেট দিয়ে চলাচল করার সুযোগ আছে। আমাদের পাশের এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে বলে শুনেছি। তারপর থেকে আমাদের গেট সব বন্ধ।

ইকবাল রোডের পাশেই লালমাটিয়া আবাসিক এলাকার বেশিরভাগ গেটই বন্ধ। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের দিকে বের হওয়ার একটি গেট এবং আড়ংয়ের পাশে একটি গেট খোলা রাখা হয়েছে এই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য। লালমাটিয়া এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়  লালমাটিয়া কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে সীমিতভাবে গেট খোলা রাখা হয়েছে।

শুধু আবাসিক এলাকা নয়, রাজধানীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ি নিজ উদ্যোগে লকডাউন করে দিয়েছেন অনেকেই। অপরিচিত ব্যক্তি, গৃহকর্মী, অতিথি কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না আবাসিক ভবনে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতেও দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিস কিংবা ডেলিভারিম্যানদেরও প্রবেশে আছে নিষেধাজ্ঞা। পাঠাও ফুড সার্ভিসের ডেলিভারিম্যান রাতুল জানান, তিনি রাজধানীর কয়েকটি বাসায় খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে এই সমস্যায় পড়েছেন। সেখান কয়েকটি বাসায় নোটিশ ঝুলতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।

বনশ্রী আবাসিক এলাকার কয়েকজন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকার অনেক বাসার মালিকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনও আত্মীয় স্বজন না আসে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন বাড়ির বাইরে না যায় কেউ। এই এলাকার বাসিন্দা আকরাম জানান, তার বাসায় গৃহকর্মী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাড়ির মালিক। এছাড়া বহিরাগতদের পাশাপাশি ড্রাইভারদেরও আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

একইভাবে রাজধানীর নিকেতন আবাসিক এলাকা, শান্তিনগর এলাকার এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই মেহমান থেকে শুরু করে গৃহকর্মী ও ড্রাইভারদের আসা যাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার একটি বাড়ির মালিক ফিরোজ জানান, তার বাসায় এই মুহূর্তে বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

 

/এসও/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ