চেকপোস্টে ‘সহিষ্ণু’ পুলিশ, ফের ঢাকা ছাড়ছে অজস্র মানুষ

Send
আমানুর রহমান রনি ও চৌধুরী আকবর হোসেন, ঢাকা; আমির হুসাইন স্মিথ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৬:০০, মে ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০০, মে ১৯, ২০২০

গাবতলী দিয়ে ট্রাকে করে মানুষ যাচ্ছে গ্রামেএকদিকে করোনা সংক্রমণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় রাজধানীতে প্রবেশ বা বের হওয়াতে কড়াকড়ি আরোপ অন্যদিকে ঈদে স্বজনদের কাছে ফেরার জন্য ঘরমুখী মানুষের ব্যাকুলতা-এরই মাঝখানে পড়ে খানিকটা অসহায় যেন পথরোধের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। চেকপোস্ট বসিয়ে মানুষকে থামানোর, মানুষকে আটকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়াবহতার কথা বলবার চেষ্টার অন্ত ছিল না তাদের, কিন্তু নাছোড়বান্দা মানুষ গ্রামে ফেরার জন্য গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে পুলিশ চেকপোস্ট পার হয়ে আবারও গাড়িতে উঠেছে। তারা পুলিশের কথা শুনেছে তবে মানেনি প্রায় কিছুই। সহিষ্ণু পুলিশ অসহায় হয়ে দেখেছে বেপরোয়া মানুষের কৌশলে গ্রামের পথে ছোটা। সোমবার (১৮ মে) রাজধানী ঢাকা থেকে বের হওয়ার সবগুলো প্রধান পথে বসানো পুলিশ চেকপোস্ট ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমাতে এ বছর আসন্ন ঈদুল ফিতরে রাজধানীতে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মানুষ যাতে গ্রামে ফিরতে না পারে সেজন্য নির্দেশনা দিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১৭ মে) ঢাকা শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই নিষেধাজ্ঞা ওইদিনই কাযকর করা হয়। কিন্তু, নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলেও গণপরিবহন না পেয়ে রাজধানী থেকে বের হওয়া পণ্যবাহী ফিরতি ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ইত্যাদিতে মানুষের শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়া থামানো যায়নি। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই গ্রামে ফেরা মানুষের সংখ্যা যেন হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সোমবার (১৮ মে) ভোর রাতে সেহরি করে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। এরপর দিনভর সে সংখ্যা ছিল হাজার হাজার। পুলিশ বাধা দিয়েও মানুষকে আটকে রাখতে পারছে না। পুলিশ জানিয়েছে, মানুষ পুলিশের বিধিনিষেধ অনুরোধ ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়াবহতা উপলব্ধি না করেই গ্রামে ছুটছে। গাড়ির পাশাপাশি সামনে কোনও গাড়ির আশায় পায়ে হেঁটে শহর ত্যাগ করা মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।

রবিবার (১৭ মে) পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের দেওয়া ঘোষণার পর রাতেই রাজধানীর কাচপুর, পোস্তাগোলা, বাবুবাজার, বছিলা, গাবতলী, বিরুলিয়া, আব্দুল্লাহপুর, কাঞ্চন সেতু ও ডেমরা ব্রিজে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়। তবে সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে এসব চেকপোস্টে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামমুখী মানুষ দলে দলে ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক, রিকশা, পায়ে হেঁটে ঢাকা ছেড়েছে। রাজধানীর এসব পয়েন্টে মানুষ জেরার মুখে পড়লেও পুলিশ সহিষ্ণু থাকায় তাদের ফেরাতে পারেনি। কেবলমাত্র যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে বের হওয়া যাবে এমন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে হাজার হাজার মানুষ পুলিশকে দেখিয়েছে হাজার হাজার কারণ। পুলিশ বুঝেছে সবই কিন্তু, নরম মানবিক আচরণ করায় আটকাতে পারেনি প্রায় কাউকেই।

পায়ে হেটে গাবতলী দিয়ে বের হচ্ছে মানুষগাবতলী: গাড়ি থেকে নেমে চেকপোস্ট পার ফের গাড়িতে উঠে ঢাকা ছাড়

সকাল থেকেই রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ঢাকা থেকে বের হওয়া মানুষ ও যানবাহন আটকাতে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এ পথ দিয়ে কোনও গাড়ি যেতে দেয়নি পুলিশ। এ কারণে টেকনিক্যাল মোড় থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত দীর্ঘ জ্যাম লেগে যায়। তবে বেলা ১২টার দিকে ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ।

এদিকে গাবতলী ব্রিজের কাছাকাছি চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। সেখানে ঢাকা থেকে বের হওয়ার গাড়িকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে। তবে গাড়ি চেক করলেও পায়ে হেঁটে বের হওয়া মানুষদের কাউকেই বাধা দেয়নি পুলিশ। চেকপোস্টে প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল থাকায় একটি একটি করে গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এতে দীর্ঘ জ্যাম লেগে যায়। এই সুযোগে পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই বিনা বাধায় মোটরসাইকেল আরোহীরা বের হয়ে গেছেন।

আবার, পুলিশকে ফাঁকি দিতে অনেকেই হয়েছেন কৌশলী। খালি গাড়ি পার হচ্ছে চেকপোস্ট, আর গাড়ির যাত্রীরা পার হচ্ছেন পায়ে হেঁটে। চেকপোস্ট পার হয়ে একটু সামনে গিয়ে উঠছেন আবার সেই প্রাইভেট কার, পিকআপ, ট্রাক, সিএনজি বা মোটর সাইকেলে।

কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পায়ে হেঁটে গাবতলীতে পুলিশের চেকপোস্ট পার হন মোহাম্মদ মোহন। তিনি রাজবাড়ী যাবেন। মোহন বলেন, কিভাবে যাবো এটা এখনও ঠিক করিনি। সামনে কোনও গাড়ি আছে কিনা তাও জানি না। তবে একটা ব্যবস্থা নিশ্চয় হবেই।

গাবতলী দিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছে মানুষঢাকা ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মোহন বলেন, আমি মেসবাসায় থাকি। রান্না করার বুয়া না থাকায় এতদিন নিজে রান্না করে খেতাম। কিন্তু রোজার দিনে খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমার রুমমেটরা আগেই চলে গেছে। এখন আমার একা থাকা সত্যিই অনেক কঠিন। ফলে বাড়ি যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

প্রায় একইরকম বক্তব্য ব্যাচলরদের অনেকের। রান্না, খাওয়ার সমস্যায় পড়ে তারা ঢাকা ছাড়তে চান। অন্যদিকে, আয় রোজগার কমে যাওয়া অনেকেই বাড়ি চলে যেতে উদ্যোগী হয়েছেন। ৬ বছরের ছেলে, স্ত্রীকে নিয়ে বাইকে করে ঢাকা ছাড়ছিলেন আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকায় থাকা মানেই তো খরচ। দুমাস ধরে কোনও আয় নেই। বাচ্চার জন্য বেশি কষ্ট হচ্ছে। বাড়িতে গেলে অন্তত নিজের বাড়ির শাকসবজি, ফলমূল খাওয়াতে পারবো। এক বাইকে স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে তিনি ছুটছেন পাবনার দিকে।

ঘরমুখো মানুষ আটকাতে না পারলেও ব্যর্থতার কোনও দায় নিতে রাজি নন দারুসসালাম থানার পরিদর্শক (পেট্রোল) মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আগেও চেকপোস্ট ছিল। তবে শপিং মল খোলায় কিছুটা শিথিল হয়ে গিয়েছিল। চেকপোস্ট আবারও জোরদার করা হয়েছে যেন কোনোভাবেই কেউ ঢাকায় ঢুকতে বা বের হতে না পারেন। শুধুমাত্র পণ্যবাহী, জরুরি কাজে নিয়োজিত মানুষদের প্রবেশ ও বের হতে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এ চেকপোস্টের পরে আরও চেকপোস্ট আছে, ফলে কোথাও না কোথাও আটকা পড়বেই।

আব্দুল্লাহপুর দিয়ে পোশাক শ্রমিকদের ভিড়কে ঢাল করে বের হয়েছে সাধারণ মানুষ যাত্রীবাহী বাস ছিল না পথে। তারপরও ঢাকা-গাজীপুর জেলার মধ্যে যান ও মানুষের চলাচলও স্বাভাবিক সময়ের মতোই দেখা গেছে। টঙ্গী সেতু দিয়ে রোজ সাধারণ যাত্রী ও পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা থেকে গাজীপুর আসছেন। আবার ঢাকায় ফিরছেন। এই পোশাক শ্রমিকদের ভিড়ের মধ্যে গ্রামমুখী মানুষ মিশে গিয়ে টঙ্গি ব্রিজ পার হয়ে ঢাকা ছেড়েছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে আব্দুল্লাহপুর চেকপোস্ট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে টঙ্গী ও গাজীপুরে আসছেন। আবার বিপরীত দিকে টঙ্গী থেকেও হাজারো মানুষ ঢাকায় যাচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন ট্রাকে, পিকআপে, কেউ মাইক্রোবাসে কেউবা পায়ে হেঁটে।

টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার থোয়াই অংপ্র মারমা জানান, পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-টঙ্গী যাতায়াত রয়েছে। এই শ্রমিকদের সঙ্গে হয়তো সাধারণ যাত্রীরাও যাতায়াত করছে। তবে যে গাড়ি ও ব্যক্তিকে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে তাদের ফেরত দিচ্ছি আমরা।

বসিলা ও বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে ছুটেছে মানুষ

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে অনেকেই বাবু বাজার ও মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ হয়ে ঢাকা ছেড়েছে। এই পথে যাওয়া বেশিরভাগ মানুষ রিকশা, সিএনজি ও টেম্পোতে করে ঢাকা ছেড়েছে। শেয়ারিং অ্যাপ বন্ধ থাকলেও 'ক্ষ্যাপে' মোটরসাইকেল নিয়ে বসিলা ব্রিজ হয়ে হেমায়েতপুর, সাভার ও সিংড়া দিয়ে মানুষ গ্রামে ফিরেছে। বাবুবাজার ব্রিজ দিয়েও অনেককে বের হতে দেখা গেছে। অনেকে ব্রিজ পার হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ও টেম্পুতে করে মাওয়া ঘাটে গেছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কঢাকা- চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল

ঢাকা- চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ছিল ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ। ঢাকা থেকে কৌশলে বের হয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলার বিশাল এলাকা পাড়ি দিয়েছেন ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, তিন চাকার অটো রিকশা কিংবা রিকশাভ্যানে। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন থামিয়ে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বটে পুলিশ হাত তুলে গাড়ি থামালেই গাড়িতে বসা মানুষ দেখানো শুরু করে নানা অজুহাত। করোনার কারণে কঠোর হওয়ার পরিবর্তে পুলিশ মানবিক ও সহিষ্ণু হওয়ায় কোনও চেকপোস্টেই আটকে রাখতে দেখা যায়নি এসব ঘরমুখো মানুষকে।

ঢাকা -চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজিতে করে মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেক মানুষ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করার জন্য চলে যাচ্ছেন।

এদিকে গণপরিবহন না চলার কারণে অনেকে পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। সরাসরি গাড়ি না পাওয়ায় এদের বেশিরভাগই যাচ্ছেন ভেঙে ভেঙে স্বল্প দূরত্বের পরিবহনে। ফলে তাদের পরিবহন খরচ পড়ে যাচ্ছে বেশি। এদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বাড়ি নরসিংদী, কুমিল্লার দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা পাড়সহ বিভিন্ন জায়গায়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসাইনবোর্ড এলাকায় দেখা যায়, কিছুক্ষণ পরপরই সাইনবোর্ড মোড়ে যানজট লেগে যাচ্ছে। আবার গাড়ি ছড়ে দেওয়া মাত্র রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল আলী হোসেন জানান, ঈদে মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য ভিড় করছ। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে মানুষ ছোট ছোট যানবাহনে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষকে ঘরে থাকার জন্য আমরা বার বার বলছি, কিন্তু সাধারণ মানুষ তা মানছে না।

শামীম আহমেদ নামে এক যাত্রী জানান, ঈদে লম্বা ছুটি পেয়েছি। তাই মা-বাবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার জন্য গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। তিনি বলেন, গণপরিবহন না থাকায় মাইক্রোবাসে চড়ে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যে কারণে ভাড়া কয়েকগুণ বেশি দিয়ে যেতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পরিদর্শক (ট্রাফিক) জিয়াউর রহমান জানান, করোনার এই ভয়াবহতার মধ্যে অনেক মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছেন বাড়ি যাওয়ার জন্য। কিন্তু গণপরিবহন না থাকার কারণে তারা ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পুলিশ চেকপোস্টে তাদের নানা জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে, যারা জরুরি কারণ দেখাতে পারছেন না তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু, তারাও পরে কৌশলে চেকপোস্ট পার হয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার এআইজি সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দেশের গণমাধ্যম ও পুলিশ সবাইকে সচেতন করছে। ভয়াবহতার বিষয়টাও প্রতিদিন মানুষ জানে। তারপরও জরুরি কারণ ছাড়া মানুষ বিচিত্রসব কারণ বলে ঘর ছাড়ছে। আমরা নাগরিকদের অনুরোধ করেছি, জীবন পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন সেটুকুর জন্য বের হোন। কিন্তু মানুষ নানা অজুহাতে বের হয়ে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ মানবিক মূল্যবোধ ও সহিষ্ণুতা রেখে দায়িত্ব পালন করছি। মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে আইন মানানোর চেষ্টা করছি।’

বাস্তবতা

তবে সমস্যা হচ্ছে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা গত ২৭ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরেও এভাবেই অসংখ্য মানুষ গ্রামে গেছেন। ৫ এপ্রিল গার্মেন্টস খোলার কারণে তারা আবার যানবাহন বন্ধ থাকলেও এভাবেই ট্রাকে, পিক-আপে চেপে ঢাকায় ফিরেছেন। এরপর বেতন নেওয়ার জন্য আবার পোশাক শ্রমিকরা একইভাবে ঢাকায় এসেছেন। আবার বের হয়ে গিয়ে গার্মেন্টস চালু হওয়ার পর ফের এসেছেন। অন্যদিকে, কাজ না থাকায় কিংবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এভাবেই ট্রাকে, পিক-আপে, ভ্যানে অন্য সুস্থ মানুষদের পাশে বসে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে গেছে অসংখ্য মানুষ। ফলে পুলিশের সহিষ্ণুতার সুযোগে অজুহাত দেখিয়ে ট্রাকভরে যাওয়া মানুষের কারণে গত দুই মাসে আক্রান্ত হয়েছে দেশের প্রতিটি জেলা। যে গ্রামে বছরের পর বছর ধরে বিদেশ থেকে আসা মানুষের পা পড়েনি সেখানেও অবলীলায় এমন ঢাকা কিংবা নারায়ণগঞ্জ থেকে যাওয়া মানুষ প্রথম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এরপর তা ছড়িয়েছে পুরো উপজেলা। সাধারণ মানুষকে গত দুমাস থেকেই পরিস্থিতি বুঝিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। কিন্তু তারপরেও সোমবার (১৮ মে) একদিনে করোনায় আক্রান্ত ও সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। এদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও ২১ জন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৪৯ জনে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ৬০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন ২৩ হাজার ৮৭০ জন। তুলনায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা এর ৬ ভাগের একভাগ। এ যাবত সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৫৮৫ জন।

চীনের উহানের পরিস্থিতির সঙ্গে ঢাকার লকডাউন বা প্রবেশ-বের হওয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতির তুলনা করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গণমাধ্যমকর্মী বলেন, চীনে উহান শহরে গত নভেম্বরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৩ জানুয়ারি থেকে হুবেই প্রদেশে লকডাউন জারি করা হয়। এতে করে দেশটির এই প্রদেশে সড়ক, রেল ও বিমানপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বসানো হয় রোডব্লক। হুবেই প্রদেশের বাসিন্দাদের সেখান থেকে বের হতে কিংবা কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে হুবেই প্রদেশ। ফল হচ্ছে এই শহর থেকে বিশাল চীনের আর কোনও শহরেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এর পেছনে ছিল দেশটির আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ। ওই সংবাদকর্মীর প্রশ্ন, বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তেমন কঠোরতা না দেখালে এই পরিস্থিতি থেকে কি কখনোই মুক্তি পাবে বাংলাদেশ?

আরও পড়ুন:

ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার যে পথগুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট

/এআরআর/টিএন/

লাইভ

টপ