‘খাবার না, ট্যাকা দেন’

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, মে ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, মে ২৩, ২০২০

ররকরোনা দুর্যোগে আর্থিক সংকটের কারণে রাজধানীতে কাজ হারানো মানুষের আহাজারি বাড়ছে। ঈদকে সামনে রেখে এই আহাজারি আরও বেড়ে গেছে। তবে সরেজমিন দেখা গেছে, এ মুহূর্তে তাদের মাঝে খাদ্যদ্রব্যের চেয়ে টাকা চাওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ, সহায়তা হিসেবে কোথাও কোথাও তারা কিছু খাদ্যদ্রব্য পেলেও নগদ টাকা পাচ্ছেন না। আনুষঙ্গিক অন্যান্য জরুরি কিছু কিনতে টাকাটাই এখন তাদের বেশি প্রয়োজন।

লালমাটিয়া সি-ব্লকের মিনার মসজিদের সামনে। লাইন ধরে ফুটপাতে বসে আছেন নারী-পুরুষ। তাদের বেশির ভাগের মুখেই মাস্ক নেই, পরস্পরের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রেখে বসার প্রবণতা নেই। এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেই সামনে হাজির হয় চারদিক থেকে অনেকগুলো হাত। পাশেই বাসা, সেখানে গেলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা হবে– প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তিন বছরের সন্তানসহ দাঁড়ানো এক মা বললেন, ‘খাবার লাগবো না। বিশ্বাস কইরা ট্যাকা দ্যান।’ খাবার লাগবে না, টাকা কেন লাগবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চাল আছে, কিন্তু মালসামান কেনা, কেরোসিন কেনা, পেঁয়াজ কেনা, একটু লবণ কেনার ট্যাকা কই?’

ডডডধানমন্ডিতে আবাহনী মাঠের উল্টো দিকে বেশকিছু প্যাকেট খাবার নিয়ে শুক্রবার (২২ মে) ৩টার দিকে হাজির হয়েছে শফি। ইফতার সামগ্রীসহ সেই প্যাকেট অপেক্ষমাণ অনেক বিত্তহীন মানুষের হাতে তুলে দিতে গিয়ে থমকে যান। প্রত্যেকে ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে টাকা সহায়তাও চেয়েছেন। শফি বলেন, ‘আমি এসেছি তাদের কিছু ইফতারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নিয়ত নিয়ে। টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই বললেই চলে। কিন্তু এক হাতে প্যাকেট নিয়ে আরেক হাত পেতে তারা বলছেন, ‘কিছু ট্যাকা দেন, বাসায় কোনও মালামাল নাই। খাওয়ার জোগাড় হয়তো হয়, কিন্তু চলতে যেসব জিনিস লাগে সেগুলা কেডা দিবো।’

সরেজমিনে দেখা যায়, আসাদগেট, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, পান্থপথের পুরো অংশ জুড়েই আর্থিক সাহায্যের আশায় বিত্তহীন মানুষের জটলা। বাসাবাড়িতে কাজ করতেন রাহেলা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাজ ছুটে গেছে। বেতন শুরুর মাসে দিলেও পরের মাসে আর দেয়নি। দাদনের টাকার জন্য চাপ আছে। ঋণ নিয়ে ঘরের জিনিস বানাইছিলাম, এখন মাসকিস্তি দিতে পারছি না। ঘরে দুটি দুধ খাওয়া শিশু। তাদের কী দিয়ে কী খাওয়াব তা বুঝতে পারি না। কোনও দিন রাস্তায় ভিক্ষা করতে নামতে হবে কল্পনা করিনি। এখন যা একটু টাকা দেয় লোকজন, ঈদের কয়দিনের ছুটিতে সেটুকুও পাবো না।’

BT-Newকরোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই ঢাকায় ত্রাণ তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয় সিটি করপোরেশন। তবে তাদের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কোনও আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছি না। শুরু থেকেই আমরা খাদ্যসামগ্রী বা ত্রাণ আকারে বিতরণ করে আসছি। তবে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।’ কিন্তু ওই টাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলে জানান মেয়র।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ