ছোট ভাইকে কোপানোর পর বড় ভাইকে মামলা তোলার হুমকি

Send
রাফসান জানি
প্রকাশিত : ০৪:৫২, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:০১, জুন ০৩, ২০২০

প্রধান-আসামি-সালাউদ্দিনরাজধানীর একটি পোশাক কারখানার প্রিন্টিং মাস্টার মো. মামুনকে (২৬) প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। গুরুতর আহতাবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গত ২৪ মে পল্লবী ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন মামুনের বড় ভাই নাসির উদ্দিন মিলন। এ ঘটনায় দু'জন গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন মূল আসামি সালাউদ্দিন। ছোটভাইকে কুপিয়ে আহত করার পর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাসির উদ্দিন।

ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে থাকায় হুমকির বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে পারছেন না বলে জানান নাসির উদ্দিন। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের হুমকির বিষয়টি জানিয়ে রেখেছেন তিনি। তিনি বলেন, 'আমার ভাইকে দিনে-দুপুরে কুপিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল ওরা। এলাকার মানুষ দেখেছে। সিসিটিভি ফুটেজেও সব দেখা গেছে। এখন সালাউদ্দিন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন জনকে দিয়ে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি থানার অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি।'

আহত-মামুনঘটনার ‍দুই দিন পর ২৭ মে মামুনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন নাসির উদ্দিন। ওই মামলায় হালিম ও সোহেল নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশের বাড়ি থেকে ধারণ করা ভিডিও সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয় বলে জানান মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ।

তিনি বলেন, 'ঘটনার পর থেকে ভোক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। মামুনকে হাসপাতালে ভর্তিসহ যাবতীয় কাজে সহযোগীতার পাশাপাশি আমরা দুই জনকে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

হাসপাতালে মামুন১ মে এই মামলার তদন্ত কাজ থেকে এসআই আসাদুজ্জামান আসাদকে সরিয়ে এসআই আরিফ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকির বিষয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, 'আমরা এখনও এমন কোনও অভিযোগ পাইনি। মামলার মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'

রানাকে না পেয়ে কোপানো হয় মামুনকে

গত ২১ মে মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের ‘বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাইজ’ এ খেতে গিয়েছিলেন মামুনের বন্ধু রানা ও হৃদয়। বিরিয়ানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় দু'জনের। ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামুনের বন্ধুদের দাবি, এর জেরেই ২৪ মে মামুনকে কুপিয়েছে সালাউদ্দিন ও তার লোকজন।

এই দোকানের সামনেই মামুনকে কোপানো হয়মামুনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার আগে সালাউদ্দিন ও তার লোকজনের হামলার শিকার হয়েছিলেন হৃদয়। তিনি ও রানা একসঙ্গে বিরিয়ানি খেতে গিয়েছিলেন। হৃদয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমি ওই দিন রোজা ছিলাম। হঠাৎ করে ওরা আমাকে মারতে শুরু করলো। আর রানাকে খুঁজছিল। আমি কোনোরকমে পালিয়ে যাই। তবে ওরা যাওয়ার সময় মামুনকে পেয়ে মারছে। যেটা আমি ফিরে আসার পর শুনেছি।'

চিকিৎসাধীন মামুনের ভাই নাসির উদ্দিন জানান, বিরিয়ানির দোকানে কী হয়েছিল এ বিষয়ে মামুন কিছু জানতো না। নামাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে সালাউদ্দি ও তার লোকজন সারা শরীরে কুপিয়ে নাড়িভুড়ি বের করে ফেলে। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যালে। অপারেশনের পর রাখা হয়েছিল আইসিইউতে। এখন বেডে আনা হয়েছে।'

 

 

/আইএ/

লাইভ

টপ