করোনা: ডিএনসিসির বাড়ি মালিকদের দিতে হবে না হোল্ডিং ট্যাক্সের জরিমানা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৮, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১২, জুন ০৩, ২০২০

ডিএনসিসির সভায় বক্তব্য রাখছেন মেয়র আতিকুল ইসলামকরোনা পরিস্থিতিতে গত দুই মাস হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে না পারায় ১৫ শতাংশ সারচার্জ জরিমানা দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম সভায় বুধবার (৩ জুন) সকালে এ কথা জানান আতিকুল ইসলাম। মিরপুর মাজার রোডে অবস্থিত ডিএনসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় করোনা মোকাবিলায় ডিএনসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম কাউন্সিলরদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘৩১ মে পর্যন্ত ১০টি ওয়াটার বাউজারের সাহায্যে ৮৬ লাখ ১০ হাজার লিটার তরল জীবাণুনাশক ডিএনসিসির প্রায় ১২ কোটি ৯২ লাখ বর্গফুট এলাকায় ছিটানো হয়। ৭টি স্থানে করোনা স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯  টেস্টিং ল্যাব (পিসিআর মেশিন) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে সাময়িকভাবে মহাখালীতে ডিএনসিসি মার্কেট করোনা হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে করোনার চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ডিএনসিসির ১৬টি কাঁচাবাজার উন্মুক্ত স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, জনগণ যাতে আরও নিরাপদে দৈনন্দিন বাজার সম্পন্ন করতে পারেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে ডিএনসিসি।’

মেয়র আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা আক্রান্তের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষামূলকভাবে ডিএনসিসির একটি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে— গ্রিন, ইয়েলো ও রেড। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু এবং চিকনগুনিয়া যেন গত বছরের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে, সেই জন্য আমি আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। ১০ মে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ জুন) পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে। কোথাও জমে থাকা পানি বা এডিস মশার বংশ বিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেলে, সেটি যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানও হয়, সেখানে আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ১৬ মে থেকে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মী দিয়ে পাঁচটি ওয়ার্ডে ঈদের আগ পর্যন্ত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আগামী ৬ মে থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে আবারও চিরুনি অভিযান শুরু করা হবে। অন্তত আগস্ট পর্যন্ত প্রতিমাসে ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে বিনামূল্যে ডিএনসিসি এলাকার ৫টি নগর মাতৃসদন ও ২২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১১ মে থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ইতোমধ্যে দুটি অ্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি অ্যাপের মাধ্যমে ডিএনসিসি এলাকার এডিস মশার লার্ভা পাওয়া সব বাড়ি বা স্থাপনার ছবিসহ তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যা পরবর্তীতে মনিটরিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে।’ মশক নিধন কর্মীদের মনিটরিং প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘সমগ্র ডিএনসিসিকে ৪০০ মিটার বাই ৪০০ মিটার গ্রিডে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রিডে বসবাসরত একজন গৃহিণীকে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে। একটি গ্রিডে কর্মরত মশক কর্মীর কাজে ওই গ্রিডে বসবাসরত গৃহিণী সন্তুষ্ট কিনা, ডিএনসিসির একটি অ্যাপের মাধ্যমে তিনি তা প্রকাশ করবেন। তার সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করবে মশক নিধন কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি। ওই অ্যাপের মাধ্যমে মেয়রসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনও এলাকার মশক নিধন কার্যক্রমের কী অবস্থা তাৎক্ষণিক জানতে পারবেন। জনগণকে মশক নিধন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতেই এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিএনসিসির সভাতিনি আরও বলেন, ‘ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে একটি করে ৩৬টি স্যাটেলাইট অগ্নিনির্বাপণ স্টেশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এ স্যাটেলাইট স্টেশনে মশা নিধন, প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদির ব্যবস্থাও থাকবে।’

ডিজিটালি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। ‘সবার ঢাকা’ অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী যেকোনও স্থান থেকে ডিএনসিসির সেবা এবং কাজের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ সমাধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তাছাড়া নাগরিকরা যাতে অনলাইনে যেকোনও স্থান থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধনসহ অনেক নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

প্রতিমাসে একবার ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরবাসীর অভিযোগ, চাওয়া-পাওয়া, সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে সরাসরি কথা বলার জন্য তিনি কাউন্সিলরদের আহ্বান জানান। এর ফলে নগরবাসীর সমস্যাগুলো তাৎক্ষণিক বা দ্রুততম সময়ে সমাধান করা সম্ভব হবে।

মেয়র সব কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্দেশে বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক না কেন, তাকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

রাজস্ব আদায় সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘মার্চ থেকে ডিএনসিসির হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় বন্ধ রয়েছে। তবে এ তিন মাসে যে ১৫ শতাংশ সারচার্জ জরিমানা হয়েছে, তা দিতে হবে না। আগামী অর্থবছর থেকে সম্প্রসারিত এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে অবস্থিত শিল্প, কলকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায় করা হবে।’

সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর সাইদুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

/এসএস/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ