করোনা মোকাবিলায় ডিএসসিসির মালামাল স্বল্পতা

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১০:০০, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৯, জুন ৩০, ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনরাজধানী ঢাকার করোনা মোকাবিলার মূল দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সাধারণ ও করোনা বর্জ্য অপসারণ, পাবলিক প্লেস জীবাণুমুক্তকরণ, লকডাউন বাস্তবায়ন, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, মশক নিধন, নিজ মালিকানাধীন হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর চিকিৎসার গুরুদায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সংস্থার কর্মীরা। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাব যতো বাড়ছে ঠিক ততোই কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামে অনীহা দেখা যাচ্ছে। এমন চিত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের। সংস্থাটির ভাণ্ডারে করোনা প্রতিরোধে সংগ্রহকৃত মালামাল ফুরিয়ে গেছে।

ডিএসসিসির কর্মীরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে তাদের কিছু মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হলেও বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে না। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই তারা মাঠে কাজ করছেন। এরই মধ্যে অর্ধ শতাধিক কর্মী আক্রান্তও হয়েছেন। ফলে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সুরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করে কাজ করছেন। অপেক্ষাকৃত কম বেতনের কর্মচারীরা তাও পারছেন না। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এতে কাজেরও ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন তারা।

দক্ষিণ সিটির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে ৬০ হাজার ৭০০টি মাস্ক, ১৭ হাজার জোড়া রাবার গ্লাভস, ২৯ হাজার ৫০০টি সার্জিক্যাল মাস্ক, তিব্বত (৫৭০) সাবান ৪০ হাজার পিস, স্যাভলন সাবান (এসিআই) ১২ হাজার ৬৪০টি, অন্যান্য সাবান ৭২৮টি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার (এসিআই) ৭৫৬টি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার (যমুনা) ১৫ হাজার, স্যাভলন এক হাজার লিটার, ব্লিচিং পাউডার ৫০ হাজার কেজি, সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড এক লাখ লিটার সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া সড়ক পরিষ্কারের জন্য নারিকেল শলা ৫ হাজার কেজি, করোনাভাইরাস সচেতনতা লিফলেট তিন লাখ, গামবুট দুই হাজার ৮৫০টি, মব ক্যাপ ১৫ হাজার, ওয়ার্ম গ্লাভস ৫৪০টি, কে এ ৯৫ মাস্ক ১১০টি, কেএন ৯৫ (৩ এম) মাস্ক ৫০টি, ত্রিপোল ১৫টি, সেফটি ড্রেস ৪০৪টি, হ্যান্ড গ্লাভস (চায়না) ৪ হাজার ৪৪০ জোড়া, মেডিক্যাল গগলস ১৫০টি, সেফটি গগলস ৭৫০টি, কমফোর্ট হ্যান্ড গ্লাভস (সার্জিক্যাল) এক হাজার জোড়া, মেডিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস (সার্জিকাল) এক হাজার জোড়া ও সাবান (কেয়া) দুই হাজার ১৬ পিস সংগ্রহ করা হয়েছে।

বর্তমানে এসব পণ্যের মধ্যে শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজার (যমুনা) ৭০টি, সাড়ে ছয় হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার, নারিকেল শলা তিন হাজার কেজি, গাম বুট ৫০ জোড়া, ওয়ার্ম গ্লাভস ২০০টি ও মেডিক্যাল গগলস ১০টি মজুত রয়েছে। এর বাইরে অতিপ্রয়োজনীয় কোনও সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই ডিএসসিসির ভাণ্ডারে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের জীবাণু ধ্বংসে প্রতিদিন পানির সঙ্গে জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার ও সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড মিশিয়ে গাড়িতে করে নগরীর সড়ক, ফুটপাতসহ জনবহুল এলাকায় ছিটানো হতো। কিন্তু বর্তমানে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড রাসায়নিকটি না থাকার কারণে কাজটিও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে নগর ভবনের প্রবেশ পথেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। সরকারের অন্যান্য অফিস ও দফতরে প্রবেশের পূর্বে শরীরের তাপমাত্রা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়াসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধিগুলো পালন করা হলেও দক্ষিণ সিটিতে তা দেখা যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলার জন্য ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের দফতরে গেলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি। তবে সংস্থার সচিব আকরামুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রথম অবস্থায় কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। এখন হয়তো কমে আসতে পারে। এভাবে আর কতো দেওয়া যাবে?

/এমআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ