গ্রেড পদ্ধতিতে গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:১২, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৪, জুলাই ০২, ২০২০

সুপ্রিম কোর্টগ্রাম পুলিশের মধ্যে মহল্লাদারদের জাতীয় বেতন স্কেলের ২০তম গ্রেড এবং দফাদারদের ১৯তম গ্রেডে বেতন দিতে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি ওই রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর তা প্রকাশিত হলো। এর আগে ২০১৯ সালের ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব, মো. মোজম্মেল হক, মোহাম্মদ কাওসার, মোহাম্মদ মাজেদুল কাদের ও নূর আলম সিদ্দিকী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইলিন ইমন সাহা, শায়রা ফিরোজ ও মাহফুজুর রহমান লিখন।

রায়ে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ মোতাবেক আইনানুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে তথা ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে তথা ন্যায্য প্রত্যাশা থেকে তথা আইনসম্মত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

‘বর্তমান মোকাদ্দমায় দরখাস্তকারীরা (গ্রাম পুলিশ)-সহ সব মহল্লাদার ও দফাদারদের ন্যায্য অধিকার বিধিমালা ২০১১ অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু প্রতিপক্ষ (সরকার) স্পষ্টত দরখাস্তকারীরা-সহ সব মহল্লাদার ও দফাদারদের ন্যায্য অধিকার থেকে বেআইনিভাবে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করে আসছে।’

রায়ের আদেশ অংশে বলা হয়, ২০১১ সালের ২ জুন হতে মহল্লাদারদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ (বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) এর ২০তম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি প্রদান করতে এবং দফাদারদের জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) এর ১৯তম গ্রেডে বেতন-ভাতাদি প্রদান করতে প্রতিপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

আদেশে আরও বলা হয়, ২০১১ সালের ২ জুন তারিখের পর হতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০১১ বহির্ভূতভাবে মহল্লাদার ও দফাদারের যে কোনও নিয়োগ অবৈধ ও বেআইনি মর্মে গণ্য হবে। উক্ত তারিখের পর হতে বিধিমালা ২০১১ বহির্ভূত যে কোনও নিয়োগ আপনা-আপনি বাতিল হবে।

রিটকারীদের অন্যতম আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে গ্রাম পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের অধীনে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করে।  কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনও শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে এক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেন। কিন্তু  কোনও সিদ্ধান্ত না পেয়ে পরবর্তীতে তারা হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৭ সালে গ্রেড অনুসারে বেতন-ভাতা পাওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ঢাকার ধামরাইয়ের টুপিরবাড়ীর হাটকুশারা এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়াসহ কয়েকজন গ্রাম পুলিশ সদস্য হাইকোর্টে বেশ কয়েকটি রিট দায়ের করেন। ওইসব রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর রুল শুনানি করে রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

 

/বিআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ