ভুল আসামিকে গ্রেফতারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিটের শুনানি মঙ্গলবার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৩৯, জুলাই ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৪, জুলাই ০৬, ২০২০

সুপ্রিম কোর্টসাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক থাকা এক আসামির সঙ্গে নামের কিছুটা মিল থাকায় খুলনার সালাম ঢালীকে কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের ওপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত কয়েকটির রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ জুলাই) বিচারপতি জেবিএম হাসানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। 

আদালতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, ইয়াদিয়া জামান ও শাহিনুজ্জামান। একই বিষয়ে অন্য এক রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে গত ১ জুলাই ‘আসামি না হয়েও জেল খাটছেন খুলনার সালাম ঢালী’ শিরোনামে একটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে গত ৫ জুলাই প্রকাশিত ওই সংবাদ সংযুক্ত করে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং আইনজীবী শিশির মনির পৃথক রিট দায়ের করেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পুলিশের মহাপরিদর্শক, কারা মহাপরিদর্শক, খুলনার পুলিশ সুপার, খুলনার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে শুনানি করবেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, ইয়াদিয়া জামান ও শাহিনুজ্জামান।

রিট আবেদনে সালাম ঢালীর পরিচয় নিশ্চিতকরণে তাকে সশরীরে অথবা ভার্চুয়ালভাবে হাইকোর্টে হাজির করা, তাৎক্ষণিক মুক্তি দেওয়া এবং তার আটক আদেশ অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, শফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুস সালামের পরিবর্তে জেল খাটছেন মফিজ উদ্দিন ঢালীর ছেলে মো. সালাম ঢালী। গত ৩ জুলাই একটি দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে ‘নামের মিল, আসল আসামির পরিবর্তে জেল খাটছেন মুদি দোকানি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এই ঘটনা আমাদের নজরে আসার পর যোগাযোগ করে সব তথ্য এবং মামলার যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করি। আমি সন্তুষ্ট হই যে, সালাম ঢালী প্রকৃত আসামি নন। তাই সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করি। রিটে সালাম ঢালীকে দ্রুত মুক্তির আবেদন করি। একইসঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যব্স্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানাই এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

প্রসঙ্গত, সালাম ঢালীর বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়— ‘অভিযোগ রয়েছে, আসামির নাম, বাবার নাম এবং ঠিকানার একাংশ মিল থাকায় নিরাপরাধ মো. সালাম ঢালী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রকৃত আসামির নাম মো. আব্দুস সালাম। মূল আসামিকে বাঁচাতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’

‘অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের গত ১১ মার্চ রাত ১২টায় খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জিত কুমার মণ্ডল সদর থানা এলাকার ৬০/১৮, শেরে বাংলা রোডের বাসিন্দা সালাম ঢালীকে গ্রেফতার করেন। মো. সালাম ঢালীর পিতার নাম মফিজ উদ্দিন ঢালী। সালাম ঢালী এখন কারাগারে রয়েছেন। প্রায় চার মাস ধরে নিরাপরাধ মুদি দোকানি সালাম ঢালী বাগেরহাটের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। অন্যদিকে প্রকৃত অপরাধী মো. আব্দুস সালাম খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া মেইন রোডের মৃত শফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি এখন পলাতক রয়েছেন।’

‘মূলত নিজের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানার একাংশ মিল থাকার সুযোগ নিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।’ তবে মামলার বিবরণে উল্লিখিত প্রকৃত আসামির নাম, পিতার নাম বা ঠিকানা কোনোটাতেই পুরোপুরি মিল নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

/বিআই/এপিএইচ/

লাইভ

টপ