শারীরিক শক্তির বদলে মানবিকতা দিয়ে সংকট নিরসনের নির্দেশ আইজিপির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫০, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২৪, জুলাই ১০, ২০২০

ওসিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আইজিপি

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে পুলিশকে বেরিয়ে আসতে হবে। শারীরিক শক্তি ব্যবহার না করে আইনি সক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে যেকোনও সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশের ৬৬০টি থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) উদ্দেশে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইজিপি এসব কথা বলেন। এদিন পুলিশ সদর দফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুন্দরভাবে জীবন চালানো যায়। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যয় হতে হবে তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বিলাসী জীবনযাপনের স্থান পুলিশের চাকরিতে নয়। দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না। বড়লোক হতে চাইলে তারা পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করুক।’ 

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আপনারা নিজে অবৈধ উপায়ে কোনও অর্থ উপার্জন করবেন না। অন্য কাউকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগও করে দেবেন না। কোনও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আপনাদের কাছে ঘুষ বা মাসোয়ারা চাইলে আমাকে তা নির্ভয়ে জানাবেন। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে দেখবো।’

করোনাকালে পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘গত তিন মাসে পুলিশ জনগণের সঙ্গে থেকে তাদের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য যা করেছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। জনগণ পুলিশকে এর প্রতিদানও দিয়েছে। পুলিশ মানুষের অগাধ বিশ্বাস, সম্মান ও আস্থা অর্জন করেছে। মানুষ পুলিশকে তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছে। যে মর্যাদা, যে সম্মান মানুষ পুলিশকে দিয়েছে, তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। পুলিশ গত তিন মাসে যেখানে গিয়েছে, সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে যাবে না। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে জনগণের পুলিশ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর করোনা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।’

আইজিপি আরও বলেন, ‘‘দেশকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে কাজ করছি আমরা সবাই। সবার আগে পুলিশ হবে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। পুলিশের কোনও সদস্য মাদক গ্রহণ করবে না। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশকে ‘মাদকমুক্ত’ করতে চাই।’’

ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশকে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের পুলিশ হয়ে জনগণের সঙ্গে থাকতে চাই।’

পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের জন্য বর্তমানে প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে তাদের চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া, আবাসন এবং অবসর পরবর্তী সময়েও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন আইজিপি। আইজিপি বলেন, ‘সৎ ও স্বচ্ছ উপায়েও যেনে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য জীবনযাপন করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সদস্যদের জন্য কল্যাণ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।’

আইজিপি আরও বলেন, ‘‘৬৬০টি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হলো বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিচ্ছবি। আপনাদের ওপরই বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। আপনাদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা রাখতে পারে এবং আপনাদের প্রত্যেককে একজন ‘সোশ্যাল লিডার’ হিসেবে সম্মান করে।’’

আইজিপি তার বক্তব্যের শুরুতে দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন উৎসর্গকারী ৪৭ জন শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

 

/জেইউ/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ