লকডাউন করেও কমছে না সংক্রমণ, ৭ দিনে আক্রান্ত ৫১

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ১৩:০৯, জুলাই ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩০, জুলাই ১২, ২০২০

ওয়ারী লকডাউন

করোনা সংক্রমণ রোধে ওয়ারী লকডাউন করা হয়েছে। তারপরও কমছে না আক্রান্তের সংখ্যা। গত সাত দিনে সেখানে ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ওয়ারীর কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, লকডাউন শুরুর দিন ৪ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত নমুনা দিয়েছেন ১২০ জন। এর মধ্যে ৫১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ।

এ বিষয়ে ওই এলাকার কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, ‘সরকার জেনে বুঝেই লকডাউন দিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সঠিক। হয়তো কিছু এলাকাবাসী মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন। তারপরও এলাকাবাসী সুস্থ ও নিরাপদে থাকুক, এটাই চাওয়া।’

 এখনও বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা

ওয়ারী থেকে এখনও মানুষের বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ওই এলাকায় বসবাসরত ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা। তারা নানা উপায়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। কখনও সহযোগিতা নিচ্ছেন এলাকার বড় ভাইদের। আবার কখনও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। একথা অকপটে স্বীকার করেছেন ওই এলাকার এক ব্যবসায়ী। তবে ওয়ারী থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হট কেক গলিতে কঠোর অবস্থানে আছেন স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ সদস্যরা।

ওয়ারী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ওই গেট দিয়ে ৭৪ জন মানুষ বের হয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ডাক্তার ও রোগী। ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার যারা জটলা করেছেন বের হওয়ার জন্য, তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আর বারবারই মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, কেউ যেন আউট গেটে ভিড় না করেন। 

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা শেফালী বলেন, ‘আপনি বলেন একটা ব্যাংক আপনাকে টানা ২৫ দিন ছুটি দেবে। আমার শাখায় মোট ৫৩ জন কর্মী। তার মধ্যে ২০ জন নেই। প্রতিদিনই ব্যাংক থেকে তাড়া দেয় যাওয়ার জন্য। কোনোদিন বের হতে পারি আবার কোনোদিন পারি না।’

ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, ‘কতদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা যায়? সামনে ঈদ আছে। বর্তমানে যে অবস্থা এখন তো আর আগের মতো ব্যবসা নেই। এখনও যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয় তাহলে খাবো কী করে?’

ওয়ারী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা

স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে সন্তুষ্ট এলাকাবাসী

লকডাউন শুরু থেকেই ওয়ারী এলাকায় ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক তিন শিফটে ভাগ হয়ে কাজ করছেন। চেষ্টা করে যাচ্ছেন এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করতে। এলাকাবাসী যখন যেভাবে চাচ্ছে সেভাবেই সাড়া দিচ্ছেন তারা। তাদের কাজে এলাকাবাসীও সন্তুষ্ট।

তারা বলছেন, স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। তারা সবসময়ই আমাদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু যত সমস্যা রয়েছে বাইরে বের হওয়া নিয়ে।

স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা আফরোজা হাসান বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবকরা খুব দ্রুত রেসপন্স করে। যখন যেভাবে চেয়েছি তাদের সাহায্য পেয়েছি। তাদের নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। আক্ষেপ বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই।’

লকডাউন ওয়ারী

স্বেচ্ছাসেবক অভি বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারা যখন যা এনে দিতে বলছে হাসিমুখে তাই এনে দিচ্ছি। এমনও হয়েছে, একজনকে এক রুটি চারবার এনে দিতে হয়েছে। তবুও চাই আমার এলাকা ঝুঁকিমুক্ত হোক।’ 

হট কেক গলিতে কর্তব্যরত ওয়ারী থানার সাব-ইন্সপেক্টর আজাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। আগের চেয়ে মানুষ কম বাইরে বের হচ্ছে। আমরা শুধু ডাক্তার, নার্স ও রোগীদের বের হতে দিচ্ছি। এছাড়া এলাকায় সংবাদকর্মী ও অন্যান্য পেশার লোকজন খুবই কম আছে।’

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ