প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:০৩, জুলাই ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১১, জুলাই ১৩, ২০২০

বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত সংবাদ১২ জুলাই অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে ‘১৪টি বেতার কেন্দ্রের সব অনুষ্ঠান বন্ধ চার মাস’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পারিচালক ড. মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তার সই করা প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা দেশের সবচেয়ে প্রাচীন গণমাধ্যম সম্পর্কে দেশবাসীকে একটি ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ,২০২০ খ্রি:। কিন্তু তার অনেক পূর্ব থেকেই বাংলাদেশ বেতার থেকে এ বিষয়ে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। সংবাদের শিরোনামটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে প্রতীয়মান হয় বেতারের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ (shutdown) রয়েছে। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে— বেতারের প্রচার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। নিজস্ব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাতীয় অনুষ্ঠান (ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান রিলের মাধ্যমে) প্রচার হচ্ছে। বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশ বেতার তার চিরায়ত ভূমিকার ন্যায় এবারও কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্র প্রচার চলাকালীন সময়ে (সকাল ৬.০০টা থেকে রাত ১১.০০টা পর্যন্ত) বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করছে।’

প্রতিবেদকের বক্তব্য: ‘দেশের জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক ড. হারুন অর রশিদের দেওয়া বক্তব্য স্ববিরোধী। প্রকাশিত সংবাদটিতে তার সঙ্গে কথা বলে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং তার রেকর্ড প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। প্রতিবেদনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা দেশের সবচেয়ে প্রাচীন গণমাধ্যম বেতারের অবদান নিয়ে কোনও প্রসঙ্গেরই অবতারণা করা হয়নি ফলে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগ একেবারেই প্রতিবাদকারীর মনগড়া।

বাস্তব বিষয় হচ্ছে, বাংলাদশ বেতার ঢাকার ছাড়াও দেশে এর ১৪টি আঞ্চলিক সম্প্রচার কেন্দ্র রয়েছে এবং সেসব কেন্দ্র থেকে গত ৪ মাস ধরে স্থানীয় সংবাদ, সঙ্গীতসহ সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ রয়েছে। নিজস্ব অনুষ্ঠান বলতে কিছু লাইভ ফোন-ইন অনুষ্ঠান হচ্ছে তবে তার দৈর্ঘ্য দুই ঘণ্টার বেশি নয়। স্বাভাবিক সময়ে এই আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্রগুলো থেকে যে ধরনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হতো এগুলো সে ধরনের অনুষ্ঠানও নয়।

প্রকাশিত সংবাদে বেতারকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় সংবাদ প্রচার বন্ধ ও সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়টি প্রতিবাদকারী কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছেন— ‘বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্র সার্বক্ষণিক অনুষ্ঠান প্রচার করে।’ রিলে করে বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্র যে সার্বক্ষণিক অনুষ্ঠান প্রচার করে সে তথ্য বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোথাও অস্বীকার করা হয়নি। আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর গত ৪ মাস ধরে নিজস্ব অনুষ্ঠান নেই- সেটিই এই প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু।  এর স্বপক্ষে এই আঞ্চলিক পরিচালকও বলেছেন দুই ঘণ্টা নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচার হয়। বাকি অনুষ্ঠান ঢাকা থেকে রিলে করে প্রচার করা হয়।’ বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নিজেই যেখানে বলেছেন, ‘করোনার কারণে মাত্র দুই ঘণ্টা অনুষ্ঠান প্রচার হয়’-সেখানে এটি স্পষ্ট যে প্রতিবেদনটি উল্লিখিত তথ্য শতভাগ সঠিক ও নির্ভুল। মহাপরিচালকের বক্তব্যই প্রমাণ করে করোনার কারণে আঞ্চলিক বেতারকেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক কাযক্রম স্থগিত রয়েছে। তাই এ ধরনের প্রতিবাদ অযৌক্তিক এবং অপ্রয়োজনীয়।

 

/এপিএইচ/এফএএন/

লাইভ

টপ