সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে ভার্চুয়াল সেমিনার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০০, জুলাই ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৪, জুলাই ১৩, ২০২০

টিআইবি

মানব ও অর্থ পাচারের মত সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময় এসব অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার, প্রয়োগ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিকদের সচেতন করার মাধ্যমে অপরাধ দমনে কার্যকর অবদান রাখা যেতে পারে।

রবিবার (১২ জুলাই) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও কুয়েত ট্রান্সপারেন্সি সোসাইটি (কেটিএস) আয়োজিত ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক এক যৌথ ভার্চুয়াল সেমিনারে এসব মন্তব্য করেন আলোচকরা।

টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

তিনি জানান, সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) চেয়ারপার্সন ডেলিয়া ফ্যারাইরা রোবিও দুর্নীতি ও অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং)-এর গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ এবং এই ধরণের অপরাধ মোকাবিলায় টিআই-এর নানাবিধ কার্যক্রম ও উদ্যোগ তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, 'দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে অর্থ পাচার বন্ধ করতেই হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। এজন্য কর্তৃপক্ষের আইনি ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে।'

কেটিএস এর চেয়ারপার্সন মাজিদ আল মুতাইরি কুয়েতে আটক বাংলাদেশি সংসদ সদস্যের অর্থ ও মানব পাচারে যুক্ত থাকার অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, 'কূটনৈতিক দায়মুক্তি না থাকলে হয়তো কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকেও আটক করা হতো।'

রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অধিক মাত্রায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'কুয়েতে আটক বাংলাদেশি সংসদ সদস্য ছাড়াও গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগ আছে। এটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বে দুর্বৃত্তায়নের একটি অসম্মানজনক দৃষ্টান্তও বটে। এতে বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ নষ্ট হওয়া এবং তাদের চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।'

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর সম্মানসূচক প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, 'দুর্নীতিও কোভিডের মতোই একধরনের ভাইরাস। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অনেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন। তাই দুর্নীতির ঘটনা এবং তা প্রতিরোধে আন্তঃদেশীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় জরুরি; বিশেষ করে আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তা খুবই কার্যকরী হতে পারে।'

কুয়েত ইউনিভার্সটি- ল স্কুলের ড. দালাল আল সাইফ ‘আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন চুক্তি’ বিষয়ক জাতিসংঘের কনভেশন বাস্তবায়নে কুয়েতের ফৌজদারি আইনের ঘাটতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসময় তিনি সাম্প্রতিক মানব ও অর্থ পাচারের ঘটনায় কুয়েতি নাগরিক ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে কুয়েতের প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারের অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

 

 

/আরজে/এএইচ/

লাইভ

টপ