চার পরিবারকে ৩০ লাখ করে টাকা দিতে হবে ইউনাইটেড হাসপাতালকে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৪২, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪২, জুলাই ১৫, ২০২০

 

ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডরাজধানীর গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত। এছাড়াও ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত মনিরুজ্জামানের পরিবার আদালতের বাইরে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা নেওয়ায় এ বিষয়ে কোনও আদেশ দেননি হাইকোর্ট।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ, অনীক আর হক, নিয়াজ মোহাম্মদ মাহবুব ও সাহিদা সুলতানা শিলা। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও তানজিব উল আলম।

পরে নিয়াজ মোহাম্মদ মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এর আগে আদালত আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত ৩০ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্স্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনা করতে চিঠি দেয়। গত ২ জুলাই তাদের আলোচনা হয়। আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মনিরুজ্জামানের পরিবার ২০ লাখ টাকায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আপসরফা করে। এদিকে আরেক ভিকটিম খোদেজা বেগমের ছেলে আলমগীর হাইকোর্টের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া রিটে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে আদালত এসব রিটের শুনানি নিয়ে নিহত মনিরুজ্জামানের পরিবার বাদে অবশিষ্ট চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৯ জুন হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন চারজন পুরুষ এবং একজন নারী।

গত ৩০ মে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণের আগুনে পাঁচ জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেন আইনজীবী নিয়াজ মাহমুদ।

ওই রিটের শুনানির পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের আইজি, ফায়ার ব্রিগেড কর্তৃপক্ষ ও রাজউকের কাছে পৃথক পৃথক রিপোর্ট চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালতে দাখিল করা তিনটি প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার তথ্য উঠে আসে।

আরও পড়ুন-

করোনা ইউনিট স্থাপনে গাফিলতি ছিল ইউনাইটেড হাসপাতালের

ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আগুন, ৫ রোগীর মৃত্যু

রোগীদের লাইফ সাপোর্ট নিয়ে মিথ্যা বলছে ইউনাইটেড, দাবি স্বজনদের

ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চেয়ে রিট

ইউনাইটেড হাসপাতালের শীর্ষ ৪ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

 

 

 

 

/বিআই/এফএস/

লাইভ

টপ