করোনা কাল হলো সাহেদের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২০, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৩, জুলাই ১৫, ২০২০

বোরকা পড়ে নদী পারের চেষ্টা
এমএলএম এর টাকা মেরে, অনুমোদনহীন হাসপাতাল বানিয়ে, টকশোতে সামাজিক রাজনৈতিক বিষয়ে আলাপ করে বেশ কাটছিল। কখনও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনও গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট বলে পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। কিন্তু বাদ সাধলো করোনাভাইরাস। করোনা নিয়ে ফায়দা লুটতে গিয়ে ধরা খেলেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে ৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতাল ও প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা হয়েছে নিয়মিত মামলাও। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা বেশ কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি করে আসছিলেন রিজেন্ট হাসপাতালে। সেখানে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে তারা জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। রিজেন্টের মালিকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন সাহেদ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের দিকে সাহেদ ধানমন্ডি এলাকায় বিডিএস কিক ওয়ান এবং কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) নামে দুটি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০১১ সালে তাকে প্রতারণা মামলায় একবার গ্রেফতারও করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে দ্রুতই তিনি জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

আরেক রিজেন্টের কাছ থেকে পেয়েছেন আইনি নোটিশ

রিজেন্ট নামে আরেকটি কোম্পানি থাকা সত্ত্বেও একই নামে কোম্পানি খোলেন সাহেদ। এ নিয়ে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম রিজেন্টের মালিকপক্ষ তাকে আইনি নোটিশও পাঠায়। কিন্তু কিছুই আমলে নেননি তিনি। জেল থেকে বেরিয়ে এসে প্রতারণার অর্থ দিয়ে তিনি রিজেন্ট গ্রুপ নামে ব্যবসা শুরু করেন। চালু করেন রিজেন্ট হাসপাতাল। এরপর থেকে নানা অভিযোগ দুর্নীতির মধ্য দিয়ে হাসপাতাল পরিচালিত হলেও ধরা পড়তে হয়নি তাকে। করোনা পরীক্ষায় হেরফেরের বিষয়টি ধরা না পড়লে এদফাও তাকে এসবের মুখোমুখি হতে হতো না বলে মনে করেন তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত অনেকেই।

একের পর এক ভাড়া বাড়ি নিজের করে নেন

রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতাল এবং রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের তিনটি ভবনই বিভিন্ন ফন্দি করে ভাড়া নেন সাহেদ। মিরপুরের ১২ নম্বরের যে বাড়িটিতে হাসপাতাল করা হয়েছে, সেটি অন্য আরেকজনকে দিয়ে ভাড়া করিয়েছিলেন। পরে সেখানে জোর করে হাসপাতাল স্থাপন করেন। দুই বছর ধরে এর ভাড়াও দেননি সাহেদ। উত্তরাতেও একই অবস্থা। ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালা উকিল নোটিশ দিয়ে এবং থানায় নালিশ করেও তাকে সরাতে পারেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দফতরকে সাহেদের বিষয়ে সতর্ক করার পরও ঢাকার বাইরে তিনি পেয়েছেন পুলিশ প্রোটেকশন। এই ব্যক্তিকে কখনও আবারও আটক হতে হবে ভাবেননি হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, উনি যে ত্রাস সৃষ্টি করে রাখতেন, আমরা কোথাও এই হাসপাতালে কাজ করতাম সেই পরিচয়ও দিতে পারবো না। আমরা উনার শাস্তির দাবি জানাই।

আরও পড়ুন

ঘন ঘন জায়গা পরিবর্তন করছিলেন সাহেদ

বোরকা পরে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাহেদ: র‍্যাব 

সাহেদ গ্রেফতার 

সাহেদের খোঁজে সাতক্ষীরাজুড়ে দিনরাত চলে চিরুনি অভিযান
প্রতারণার জগতে সাহেদ আইডল: র‌্যাব

সাহেদ ও সাবরিনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

মৌলভীবাজারে খোঁজ মেলেনি সাহেদের 

রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা মামলা ডিবিতে

রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ গ্রেফতার

রিজেন্টের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর চুক্তি করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে

সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

যেভাবে উত্থান সাহেদের

সাহেদের অপরাধের বিচার চান স্ত্রীও

রিজেন্ট হাসপাতালের ভবনগুলো দখল করেছিলেন সাহেদ

রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ গ্রেফতার

 

/এনএল/এআরআর/ইউআই/এফএএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ