ঈদ আনন্দে উন্মুক্ত স্থানে বাঁধনহারা মানুষ

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২১:০০, আগস্ট ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০১, আগস্ট ০৩, ২০২০

হাতিরঝিল এলাকা (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)করোনা পরিস্থিতিতে সিনেমা হলসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের আনন্দে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা। করোনার ভয়াবহতা ভুলে গিয়ে সবাই নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে এভাবে ঘোরাঘুরিতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর হাতিঝিলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশায় শত শত মানুষ আসছে হাতিরঝিলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের আনাগোনাও। কেউ আসছে পরিবার-স্বজন নিয়ে, কেউবা আবার বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ এসে প্যাডেল বোট ও ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কেউ গাছতলায় শুয়ে-বসে গল্প করছেন। সেই আনন্দঘন মুহূর্তটি স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে মোবাইল ফোনে ছবি ও সেলফি তুলছেন। তরুণদের কাউকে কাউকে ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল রেসিং করতেও দেখা গেছে।

মালিবাগ থেকে ছোট্ট দুই ছেলের আবদার মেটাতে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছে ফয়সাল মাহমুদ। একটি ব্যাংকের চাকরিজীবী ফসয়াল বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে ছেলেরা বায়না ধরছে ঘুরতে যাবে। কিন্তু শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন বন্ধ, তাই এখানে নিয়ে এসেছি। কতক্ষণ হাঁটার পরে ছেলেরা বললো ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়বে। পরে টিকিট কেটে নিজেসহ ঘুরে আসলাম। মানুষের মধ্যে যতটুকু পারা যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি।’

এফডিসি মোড় দিয়ে হাতিরঝিলে ঢুকতেই ব্রিজের পাশে রয়েছে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। সারি সারি ইটের টেবিলে আছে দাবার বোর্ড। কাউকে দাবা খেলতে দেখে না গেলেও টেবিলে কেউ শুয়ে আছে, আবার অনেকে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গল্প করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া তরুণ সায়েম, রাকিব, ওমি ও মৃণাল সেন হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছে। তারা জানান, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে এখন দেখা হয় না বন্ধুদের সঙ্গে। তাই আজ সব বন্ধুরা মিলে এখানে এসে গল্প করছেন। কারও মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে সবাই পকেটে থেকে বের করে দেখিয়ে বলেন, ‘নিজেরা-নিজেরাই গল্প করছি তো, এই জন্য খুলে পকেটে রেখেছি।’

এদিকে হাতিরঝিলের মহানগর ব্রিজের ওপর কয়েকজন যুবককে ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল রেসিং করতেও দেখা গেছে। তাদের এই রেসিংয়ের কারণে হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায় কিনা তা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন ব্রিজের দুই পাশের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষরা।
মহানগর প্রজেক্ট থেকে ছেলে ওমর ফাইয়াজকে নিয়ে ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে পশ্চিম পাশে যাচ্ছেন আরিফুল হক। তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যদি কোনও মানুষের গায়ে এসে পড়ে তখন কী হবে। এগুলো বন্ধ করা দরকার প্রশাসনের।’

হাতিরঝিলের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরির পরিবেশ নেই দীর্ঘদিন ধরে, এমন অভিযোগ করে আসছে রাজধানীবাসী। তার বাস্তব চিত্রও দেখা যায় সেখানে। কিছু দর্শনার্থী থাকলেও ভাসমান অনেক যুবককে মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায় সেখানে।

রবীন্দ্র সরোবর (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)ধানমন্ডি লেকে খুব বেশি দর্শনার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। তবে রবীন্দ্র সরোবর, জাহাজবাড়ি পয়েন্ট ও ডিঙ্গি চত্বরে তরুণ বয়সী ছেলেমেয়ের আনাগোনা রয়েছে। ডিঙি নৌকায় ঘুরে, ছবি তুলে তারা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। কেউবা আবার শরীরচর্চাও করছেন। ধানমন্ডি লেকে আসা শিশু-কিশোরদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে দুই শত টাকার বিনিময়ে এক ঘণ্টার জন্য ডিঙি নৌকা ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানো।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/এএইচআর/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ