সিনহা হত্যার বিচারের জন্য জীবনের শেষদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন শিপ্রা: র‍্যাব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১৫, আগস্ট ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২২, আগস্ট ১১, ২০২০

সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাব টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা হত্যার ন্যায়বিচারের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানিয়েছেন শিপ্রা দেবনাথ। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় র‍্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সাক্ষী শিপ্রা দেবনাথকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে শিপ্রা দেবনাথ একটি স্পর্শকাতর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এটি তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এটি তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তিনি এর বিচার দেখে যেতে চান। প্রয়োজনে ন্যায়বিচারের স্বার্থে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

পুলিশের চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান দুই সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আত্মসমর্পণ করা আসামি সাত পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে আনা হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সাক্ষীদের দেওয়া তথ্যের ওপর আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে গত দুইদিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ঘটনার দিন প্রত্যেকেই বাহারছড়া কেন্দ্রের চেকপোস্টে দায়িত্বরত ছিলেন। এছাড়াও তারা ঘটনার বিষয় বিস্তারিত খুঁটিনাটি সব তথ্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বাহারছড়া চেকপোস্টে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যরাও ছিলেন। বিস্তারিত তথ্য তদন্তের স্বার্থ এখনই বলা যাচ্ছে না। হত্যা মালার মূল আসামি বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও উপ-পরিদর্শক নন্দলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তদন্ত কর্মকর্তা প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্ত কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মনে করছেন, শুরুতে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করা আসামি বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আশিক বিল্লাহ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত তিন জনকে ৭ করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এবং বাকি ৪ জনকে দুই দিন করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। তাদের বিস্তরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তা আরও ১০ দিন করে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। এই আবেদনের বিষয় আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) শুনানি শেষে একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ দেবেন আদালত।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আদালত আসামিদের সমস্ত প্রকার রিমান্ড কার্যক্রম ও জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার আদেশ দিয়েছিল। এই নির্দেশ মোতাবেক তদন্ত কর্মকর্তা কার্যক্রম শুরু করার একপর্যায়ে সময়সীমা উন্মুক্ত করার আবেদন করলে আদালত সেটি উন্মুক্ত করেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী পুলিশের দায়ের করা মামলা থেকে আজ (সোমবার) জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

এই ঘটনায় পুলিশ সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা দায়ের করে। দুটি মামলা টেকনাফ থানায় এবং একটি মামলা রামু থানাতে। এই তিনটি মামলার তদন্তভার আদালতের নির্দেশে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় মেজর (অব.) সিনহার বড় বোনের দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলা এবং পুলিশের দায়ের করা ৩টি মামলা, মোট ৪টি মামলার তদন্তভার এখন র‍্যাবের হাতে এসেছে বলেও জানান তিনি।

জব্দ আলামতগুলো উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নিয়েছে র‍্যাব- জানতে চাইলে লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, মূলত সিফাত ও শিপ্রার বিরুদ্ধে যে তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, ওই তিনটি মামলার পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে সিজার লিস্ট (জব্দ তালিকা) ধরে সব আলামত র‍্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা বুঝে নেবেন। ওই সিজার লিস্টে তাদের যেসব জিনিসের বিষয় উল্লেখ নেই, যেমন গণমাধ্যমের দ্বারা জানতে পেরেছি, (ল্যাপটপ, ক্যামেরা) এসবের বিষয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের পূর্বে সাক্ষীদের কাছ থেকে জানতে চাই। কোনও সংবাদের ওপর ভিত্তি না করে, সাক্ষীদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে তদন্ত কর্মকর্তা সেগুলো উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি আরও বলেন, মামলার প্রধান সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রা দুজনই বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ফোনালাপ ফাঁসের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘটনা সংক্রান্ত যেসব ফোলালাপ প্রকাশ হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করে সত্যতা পেয়েছি। আরও পর্যালোচনার পর তদন্ত কর্মকর্তা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন৷

আশিক বিল্লাহ বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে অনাকাঙ্ক্ষিত যে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

/এআরআর/এফএএন/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ