শারীরিক উপস্থিতিতে সব আদালত খুলবে কবে?

Send
বাহাউদ্দিন ইমরান
প্রকাশিত : ০৯:০০, আগস্ট ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১১, আগস্ট ১৩, ২০২০

করোনা মহামারির মাঝেও সারাদেশে নিয়মিত আদালত পরিচালনার পক্ষে সোচ্চার রয়েছেন আইনজীবীদের একটি অংশ। বিভিন্ন সময়ে তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত খুলতে শুরু করেছে। তবে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে আদালত খোলার পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হবে কবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের।

করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ মার্চের পর থেকে দফায় দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়াতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ ও সব নিম্ন আদালতেও এসময় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরে বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির পক্ষে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করেন আইনজীবীরা। যদিও আইনজীবীদের আরেকটি পক্ষ ভার্চুয়াল আদালতের ওপর নির্ভর করতে বিভিন্ন সময় তাদের অভিমত প্রকাশ করেন। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং বিচারপ্রার্থীদের দুরবস্থার কথা ভেবে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে আদালত কর্তৃক ‘তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ (২০২০ সনের ১১ নং আইন) আইনের দ্বারা। কিন্তু ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় আরও কিছু আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কোর্ট কর্তৃক প্রণীত প্রাকটিস ডাইরেকশন সংশোধন করেন। এরপর থেকে দেশের হাইকোর্ট ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বেও আপিল বিভাগ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনার কাজ শুরু করেন।

তবে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় সন্তুষ্ট নন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনজীবী। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন আদালত বন্ধ থাকায় পেশাজীবী আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। পরে ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু দেশের ৩ শতাংশ আইনজীবীও ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত হতে পারেননি এবং ৫ শতাংশ বিচারপ্রার্থীও এর সুফল ভোগ করতে পারেননি। যে কারণে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা চান—স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়া হোক।’

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির মাঝেও দীর্ঘদিন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম চলার পর অবশেষে গত ৫ আগস্ট থেকে দেশের সব অধস্তন আদালতে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর থেকে দেশের সব অধস্তন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে শুরু হয়।

পাশাপাশি গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ১৮টি বেঞ্চে বিচার কাজ শুরুর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এছাড়া করোনা বিবেচনায় শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেও হাইকোর্টের ৩৫টি বেঞ্চে বিচারকার্য পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্ট বেঞ্চের বড় একটি অংশ এবং আপিল বিভাগ এখনও ভার্চুয়ালি পরিচালিত হওয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি কিছু আইনজীবী।

সাধারণ আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমতাজউদ্দিন আহমদ মেহেদী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯৫% আইনজীবী প্রশিক্ষণ না থাকায় ও ইন্টারনেট সুবিধার অভাবে ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা করতে পারছেন না। অধিকাংশ আইনজীবীর সঞ্চিত টাকা নেই। করোনা একটি দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক সমস্যা। কোভিড-১৯ কতদিন স্থায়ী হবে, তা কেউই জানে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবজাতিকে দীর্ঘদিন ধরে করোনা মোকাবিলা করেই টিকে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন সচেতনতা ও সাবধানতা। জীবন তো আর থেমে থাকতে পারে না এবং জীবিকা ছাড়া জীবন অচল। তাই প্রধান বিচারপতির কাছে দেশের সমগ্র আদালত খুলে দিতে অনুরোধ জানাই।’

আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কবে নাগাদ সারাদেশে পূর্ণাঙ্গরূপে আদালতগুলো খুলবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। নিয়মিত আদালত খোলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের (প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা) ওপর নির্ভর করছে।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X