কোভিড পরিস্থিতিতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ বড় চ্যালেঞ্জ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:২৩, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

 

যক্ষ্মা এবং কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণে যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাছাড়া রোগ ছড়ানোর উপায়ও প্রায় একই ধরনের। দুটি রোগের ক্ষেত্রেই ফুসফুসের সংক্রম ঘটে থাকে। তাই এই সময়ে কারও যদি দুই সপ্তাহ ধরে কাঁশির লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই যক্ষ্মার পরীক্ষা করাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম।

সোমবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘কোভিড প্রেক্ষাপটে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এক কথা বলেন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি), বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক ডা. মাহফুজা রিফাত।

অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, ‘একজন যক্ষ্মা রোগী থেকে কমপক্ষে ছয় জনে রোগটি ছড়াতে পারে। তাই কোথাও একজন যক্ষ্মা রোগী পাওয়া গেলে তার সম্পৃক্ত কমপক্ষে ছয় জনকেই পরীক্ষা করাতে হবে।’ করোনার কারণে যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচিতে কিছুটা শৈথিল্য দেখা দিয়েছে। তবে  আগামী তিন মসের মধ্যে সেটি পুষিয়ে নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে যক্ষ্মা নির্মূল যথেষ্ট সফল।’

অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম  জানান, ভারতের মুম্বাই নগরীতে এমডিআর (মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্রেন্স) যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা লক্ষাধিক, করাচিতে ৯০ হাজারের বেশি, সেখানে ঢাকাম মাত্র সাড়ে তিন হাজার। তিনি বলেন, ‘যক্ষ্মা শনাক্তকরণই আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। যক্ষ্মায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে  ৯৬ শতাংশ সাফল্য এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘জটিল যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একশ’ উপজেলায় ডিজিটাল এক্সরে স্থাপন করা হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, ‘আমরা দেশ থেকে টিবি নির্মূল করতে চাই। কিন্তু দিনে দিনে এর জটিলতা বাড়ছে। বিশেষ করে হাড়, অন্ত্র, জরায়ু এবং অস্ত্রপচারস্থলে যক্ষ্মার সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, যা নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করতে অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত যক্ষ্মা নির্ণয় ও প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে।’

গোল টেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল টিউবারক্লোসিস প্রোগ্রামের জাতীয় সমন্বয়ক ডা. রুপালী শিশির। গ্লোবাল টিবি রিপোর্ট ২০২০ এর বরাত দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে মোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৪২ জন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রতিলাখে ২২১ জন নতুন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে এবং প্রতি লাখে ২৪ জন মৃত্যুবরণ করে।

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের যে ৩০টি দেশের মধ্যে যক্ষ্মা রোগী বেশি, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে আশাব্যঞ্জক হচ্ছে, যদি যক্ষ্মা রোগী নিয়মিত ও নির্দিষ্ট মেয়াদে ওষুধ সেবন করে, তাহলে সব ধরনের যক্ষ্মা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার সাফল্যের হার প্রায় ৯৬ শতাংশ। বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা বাড়ানোর  কোনও বিকল্প নেই। এটাই এই সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফের সঞ্চালনায় বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজ ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, এনটিপি বাংলাদেশ অন গ্লোবাল ফান্ড অ্যান্ড এমডিআর টিবি’র অ্যাডভাইজার ডা. মো. আব্দুল হামিদ সেলিম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাকিল আহমেদ প্রমুখ।

 

/জেএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ
X