কবে স্ক্র্যাপ করা হবে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৬১৬ সিএনজি?

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৩:০০, অক্টোবর ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১৯, অক্টোবর ১৩, ২০২০

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অবৈধভাবে রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন হাজার ৬১৬টি সিএনজি ও পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি হুইলার অটোরিকশা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এসব অটোরিকশার ইকোনমিক লাইফ উত্তীর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এখনও কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

২০০১ সাল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার করে ২৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন দেয় বিআরটিএ। এর মধ্যে ঢাকায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার সিএনজি ইতোমধ্যে স্ক্র্যাপ করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ মডেলে যে সব অটোরিকশা প্রস্তুত করা হয়েছিল এমন সাড়ে পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ইতোপূর্বে স্ক্র্যাপ করে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আর ২০০৪ সালে প্রস্তুতকৃত তিন হাজার ৬১৬টি সিএনজি অটোরিকশার মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। সেগুলো এখন চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচল করছে।

এসব যানবাহনের মালিকরা বলছেন, তাদের মেয়াদউত্তীর্ণ অটোরিকশাগুলো স্ক্র্যাপের জন্য গত ৬ জুলাই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সিএনজি থ্র্রি-হুইলার বেবিট্যাক্সি মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয় বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে। সমিতির সভাপতি নুরুল হুদা বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াজি উল্লাহ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরীর চলাচলকারী ২০০৪ মডেলের ৩ হাজার ৬১৬টি সিএনজি অটোরিক্সা আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এসব সিএনজি অটোরিকশা সড়কে চলাচল সড়ক পরিবহন আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। এই অবস্থায় এইসব গাড়ির ডকুমেন্টের মেয়াদ না থাকার অজুহাতে চট্টগ্রাম নগর ট্রাফিক পুলিশ সড়ক আইনে বেপরোয়া মামলা দিয়ে বিপুল অংকের জরিমানা আদায় করছে। অন্যদিকে মামলা ও হয়রানি না করার শর্তে গাড়িপ্রতি প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হচ্ছে মালিক ও চালকদের। বিদ্যমান এ সংক্রান্ত সার্ভিস রুলস অনুয়ায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে সিএনজি অটোরিকশাগুলো স্ক্র্যাপকরণ ও প্রতিস্থাপন বাধ্যবাধকতার সত্ত্বেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

চট্টগ্রাম মহানগর থ্রি হুইলার অটোরিকশা সিএনজি চালক মালিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এসব মেয়াদউত্তীর্ণ সিএনজি স্ক্র্যাপ করার জন্য অনেকবার বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছি। তারা টাইমের পর টাইম পার করছে। এখন পর্যন্ত কোনও সময় নির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন এ মাসের মধ্যে ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু কোনও অগ্রগতি দেখছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারছি না। গাড়ির কাগজপত্রগুলো নবায়ন করছে না। নতুন আইনে বিপুল জরিমানা করে। প্রতিস্থাপনের জন্য আমরা সিএনজি অটোরিকশা প্রস্তুত রেখেছি। অতি দ্রুত আমাদের এ ব্যবস্থাটা করে দেওয়া হোক। আর এভাবে গাড়ি চালানোও ঝুঁকিপূর্ণ। মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চালানোর জন্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এর গ্যাস সিলিন্ডারগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

বিআরটিএ চট্টমেট্রো-১ সার্কেলের সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি সহকারী পরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিআরটিএর সদর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে ২০০২ সালের ৯৫টি, ২০০৩ সালের ৪৪ টি এবং ২০০৪ মডেলে প্রস্তুতকৃত ৩৬১৬টি মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি/পেট্রোলচালিত ফোর স্টোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করার জন্য নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি। এরপর বিআরটিএ থেকে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে পত্র দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন সই করা এক পত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত ২০০৪ সালে তৈরিকৃত সিএনজি/পেট্রোল চালিত ৪ স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিকশার ১৫ বছর মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর উত্তীর্ণ হয়েছে বিদায় স্ক্র্যাপকরণ ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রম নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হলো। একই সঙ্গে বর্ণিত কার্যাদি সম্পাদনের পর একটি প্রতিবেদন এ বিভাগে প্রেরণের জন্য অনুমোধ করা হয়।

ওই নির্দেশনায় যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে- বিআরটিএ একটি সুনির্দিষ্ট কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। কর্ম-পরিকল্পনার একটি কপি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রেরণ করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক ভেন্যুতে কাজ করবে। এ কাজের জন্য বিআরটিএ একটি সুসম্পন্ন করার জন্য কমিটি করবে। কমিটি বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্ক্র্যাপ কাজ সম্পন্ন করবে। কমিটির সব সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে স্ক্র্যাপ কাজ সুসম্পন্ন হয়েছে মর্মে প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

জানতে চাইলে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে এই পুরো বছর সময় দেওয়া হয়েছে। আদেশ যেহেতু এসেছে আমরা সময় সুযোগ করে কাজ শুরু করবে। এজন্য একটা কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করবো। এরপর তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। এখন কবে নাগাদ শুরু করবো সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, এই সব সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধনের সময় মেয়াদ বা আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ বছর। পরে মালিক ও চালকদের দাবির মুখে তিন দফায় অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। ১৫ বছরের মেয়াদ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। বর্তমানে সিএনজি অটোরিকশাগুলো লক্কর-ঝক্কর ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

/এফএস/আপ-এনএস/

লাইভ

টপ