আদালতের নির্দেশের পর বাবার বাড়িতে ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০০, অক্টোবর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৪, অক্টোবর ২৭, ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহউচ্চ আদালতের নির্দেশের পর সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজি তাদের বাবা মরহুম মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের গুলশানের বাসায় ফিরতে পেরেছেন। মুশফিকা মোস্তফা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাবার বাসায় উঠেছি। এবার বাসায় উঠতে পুলিশ সহযোগিতা করেছেন। উচ্চ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই বোন মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফা তাদের বাসায় ফেরেন। এর আগে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করে জানান, বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী তাদের বাসায় উঠতে দিচ্ছে না। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে দুই বোনকে তাদের বাবার বাসায় উঠিয়ে দিয়ে এসেছি এবং বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি।’

কয়েকটি গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আনার পর সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।

ওই আদেশে বলা হয়, মেয়ে দুই জনকে সোমবার রাতেই ওই বাড়িতে প্রবেশ ও অবস্থান নিশ্চিত করার পর রাতেই গুলশান থানার ওসি সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসারকে টেলিফোনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবেন। এছাড়া ১ নভেম্বর পর্যন্ত ওই বাসায় দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। পাশাপাশি গুলশান থানার ওসিসহ ১ নভেম্বর দুই মেয়ে এবং ওই বাড়িতে থাকা আঞ্জু কাপুরকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এর আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর বাড়িটি। গৃহকর্তার মৃত্যুর পর মালিকানা নিয়ে বিরোধে তার দুই মেয়ে অবস্থান নিয়েছেন বাড়ির সামনে। ওই দুই বোনের দাবি, বাড়ির দখল বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আঞ্জু কাপুরের হাতে। তিনি কিছুতেই ওই বাড়িতে তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না।

মুশফিকা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৯৮৪ সালে তার বাবা মাকে নিয়ে গুলশানের এই বাসাতেই সংসার শুরু করেছিলেন। তাদের জন্ম এই বাড়িতে। ২০০৫ সালে তাদের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। পরে আঞ্জু কাপুর নামে এক ভারতীয় নারীকে তাদের বাবা বিয়ে করেন। তিনি একাই এখন এই বাড়ির ভোগদখল করছেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর মোস্তফা জগলুল মারা যান। মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ পেশায় পাইলট ছিলেন। ভাই-বোনদের মধ্যে শুধু সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশে নেই।

আরও পড়ুন: সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের দুই ভাতিজিকে বাসায় প্রবেশ নিশ্চিতের নির্দেশ

/এসএইচ/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ