অফিস, কারখানা ছেড়ে তারা এখন হকার

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ০২:৩০, অক্টোবর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪০, অক্টোবর ২৭, ২০২০

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে−এভরিবডিজ বিজনেস ইজ নোবডিজ বিজনেস। সবার ব্যবসা মানে কারোরই ব্যবসা নয়। কিন্তু করোনাকালের বেকারত্ব মানছে না কোনও প্রবাদ। প্রেস, কারখানা ও অফিসের ছোটখাটো পদে যারা একসময় ‘চাকরি’ করতেন, তারা এখন একযোগে হাঁক ছাড়ছেন, ‘লাগবে পটল, কুমড়া, টমেটো...।’

রাস্তার পাশে ভ্যানে করে সবজি বা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এই জনবহুল শহরে নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তার পাশে ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আসছেন ভ্রাম্যমাণ খুদে ব্যবসায়ীরা। তবে এবার অনেকেই রাস্তায় নেমেছেন করোনার যাঁতাকলে পড়ে। করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে রাজধানীতে এভাবে ভ্যানে করে পণ্য বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে।

করোনাভাইরাসের জেরে অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়েছেন। কাজ হারিয়ে কেউ শহর ছেড়েছেন আবার কেউ সন্ধান করেছেন নতুন কাজের। কেউবা বাধ্য হয়ে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ‘ভ্যানে পণ্য বিক্রি’ করাকে।

করোনাকালে লকডাউনে প্রায় স্থবির ছিল রাজধানীসহ সারাদেশ। তবে যখন সরকারি সিদ্ধান্তে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করলো, তখন থেকে ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতে শুরু করলেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। আগে যারা এই পেশায় যুক্ত ছিলেন তাদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন করোনায় কাজ হারানো অনেকে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর হাতিরপুল বাজার, জিগাতলা, ধানমন্ডি-১৫, শংকর ও মোহাম্মদপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিকাল হতেই রাস্তার পাশে ভ্যান নিয়ে বসতে শুরু করেছেন অনেকে। তাদের পণ্যের তালিকায় আছে শার্ট, প্যান্ট, ছোটদের জামা, জুতা, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, বিভিন্ন কাঁচা সবজি, চাল, ডাল, শুঁটকি, মুরগি, ফলমূল, বই-খাতাসহ নানা ধরনের পণ্য। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় এরকম অন্তত ২৫ জন বিক্রেতার। এদের মধ্যে ১৭ জনই এই পেশায় নতুন। করোনার কবলে পড়ে তারা এ পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছেন।

ভ্যানে ফল বিক্রেতা জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে জিঞ্জিরায় শাড়ি কাপড়ের কারখানায় চাকরি করেছি। করোনার কারণে চাকরি চলে গেছে। সেখানে তিন ভাগের একভাগ মানুষ রাখছে। তারপর আর কোথাও চাকরি হয় না। পরে কোরবানি ঈদের পরে এই ফলের ভ্যান নিয়ে বসছি। এখন নতুন দোকানদারি, সবকিছু বুঝে উঠতে পারি নাই। এখন কোনও রকম চলেছে। জীবন তো বাঁচাইতে হবে।’

জুতা বিক্রেতা জুয়েল বলেন, ‘করোনায় ছাপা কারখানার চাকরি হারিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কিছু করে উঠতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে আবার ঢাকায় আসছি। দিন হিসেবে ভ্যান ভাড়া করে এখন জুতা বিক্রি করি। কোনও রকমে পেট চলে, বেশি বিক্রি হয় না।’

ছোটদের জামা বিক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি তিন বছর যাবৎ ভ্যানে কাপড় বিক্রি করি। আগে বিক্রি ভালোই হতো। করোনার সময় বিক্রি বন্ধ ছিল। ২ মাস হলো আবার বিক্রি শুরু করেছি। এখন আগের মতো বিক্রি নাই। তয় আগের চেয়ে ভ্যান বাড়ছে। অনেক মানুষ নতুন করে ভ্যান নিয়ে বসছে।’

ভ্যানে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় মেলা করে বেড়াতাম। করোনা আসার পর এখন মেলা বন্ধ। তিন মাস হলো ভাইয়ের এই দোকান নিয়ে বসি। ৮ সদস্যের পরিবারে এখন এটাই আমাদের দুই ভাইয়ের আয়ের প্রধান মাধ্যম।’

বিক্রেতাদের তথ্যমতে, কোরবানির ঈদের পরে অসংখ্য মানুষ কাজের সন্ধানে রাজধানীতে এসেছেন। এরমধ্যে অনেকেই কোনও কাজ না পেয়ে ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। এসব ভ্যানে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে অনেকে পণ্য কেনেন।

ছবি: প্রতিবেদক

/এমআর/আপ-এনএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ