ফেসবুকে সমালোচনা করে বরখাস্ত হলেন শিক্ষক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩১, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৮, অক্টোবর ২৮, ২০২০

বরখাস্তের আদেশের অনুলিপিঅনুমোদন ছাড়া অর্জিত সনদের বৈধতা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। নেত্রকোনার বাহাট্টা উপজেলার যশমাধব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুষার চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই ঘটনায় নেত্রকোনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওবায়দুল্লাহ সাময়িক ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করে আদেশের অনুলিপি পাঠান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক আদেশে অনুমোদন ছাড়া অর্জিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সনদের বৈধতার আদেশ জারি করে। সরকারি এই আদেশের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন তুষার চৌধুরী।

তুষার তার ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘নিয়মিত ক্লাস করছেন, নিয়মিত চাকরি করছেন, একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুই জায়গায় উপস্থিত, সরকারি হিসাব মতে, শিক্ষক হাজিরাতে স্বাক্ষর করেছেন এবং কলেজে ছাত্র হাজিরায় ৬০ শতাংশ ন্যূনতম উপস্থিতি ছাড়া পরীক্ষা দিতে পারেন না। যা বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা, নিয়মিত উপস্থিতি বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিপুল পরিমাণের ঘুষ লেনদেন ব্যতিত এই আদেশ জারি হতে পারে না। দুর্নীত দমন কমিশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’



ফেসবুক পোস্টএদিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ‘অনেক শিক্ষক অধ্যয়নরত থাকাকালীন চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং পরবর্তীতে চাকরিরত অবস্থায় অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া অনেক শিক্ষক নৈশকালীন-সন্ধ্যাকালীন কোর্সে সম্পন্ন করেছেন কিন্তু অসচেতনতার কারণে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করেনেনি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত যদি কোনও শিক্ষক শিক্ষকগত যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন তবে ওই যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা সার্ভিসবুকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন জাতীয়করণ করা অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেসরকারিভাবে লেখাপড়া করেছেন তাদের সনদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন, সেই সঙ্গে নিজের ক্যারিয়ার গড়া লক্ষ্যে লেখাপড়া করেছেন। সেসব বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক শিক্ষকদের কল্যাণে বিশেষ বিবেচনায় সরকার এই আদেশ জারি করেছে। অথচ সেই শিক্ষকরাই সমালোচনা করছেন নিজেদের বিরুদ্ধে।

/এসএমএ/এনএস/

লাইভ

টপ