হাজি সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রিমান্ড শেষে কারাগারে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:১৯, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৬, অক্টোবর ২৮, ২০২০

পুলিশ হেফাজতে মিজানুর রহমান

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে  রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানা সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আশরাফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।

তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক  আশফাক রাজীব হাসান মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি মিজানুর রহমানকে একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মিজানুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান মিজানুর রহমানের একদিনের  রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বুধবার (২৮ অক্টেবর) হাজি  সেলিমের  ছেলে এরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী জাহিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইরফানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবি সিদ্দিকী দিপুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হাজি সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান। 

আসামিরা হলেন— এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজি সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন  ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ওয়াসিফ আহেমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে  মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে চলে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো। এই বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।’

 

/টিএইচ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ