বন্যা-দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্র্যাক ও রেড ক্রিসেন্টকে সহায়তা ফেসবুকের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৯, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, অক্টোবর ২৯, ২০২০

ব্র্যাক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ফেসবুক

দুর্যোগে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, ত্রাণদাতা ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য  ব্র্যাক এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)-কে ডিজিটাল সহায়তা দিয়ে প্রস্তুত রাখতে একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে ফেসবুক।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফেসবুক থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক বিডিআরসিএস এবং ব্র্যাক দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যে ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তা প্রচার করতেও সহায়তা করেছে ফেসবুক। এছাড়া দুর্যোগ কবলিত মানুষকে সহায়তা করার জন্য ফেসবুকের টুলস ও প্রোডাক্টগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও  বলা হয়েছে,১৯৯৮ সালের বন্যার পরে বিশেষজ্ঞরা এ বছরের বন্যাকে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হিসেবে বিবেচনা করছেন, যা ৩৩টি জেলা এবং ৫৫ লাখ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এ বছরের বন্যার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রকোপ মানুষের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ এখন দারিদ্র্যতার শিকার।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. মহসিন বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফেসবুকের মতো একটি বিশ্বমানের সংস্থা যখন বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তখন বেশিসংখ্যক মানুষকে নিযুক্ত করা আমাদের জন্য আরও সহজ হবে।’

ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের পরিচালক সাজেদুল হাসান ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারিত্বের জন্য ফেসবুককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রম যেমন- কাজের অভাব, বিশুদ্ধ পানির অভাব, মহামারির প্রকোপ ইত্যাদি বন্যা চলাকালীন কার্যক্রমের মতোই চ্যালেঞ্জিং।’

প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন এলাকা বন্যা কবলিত হওয়ার পর পরই সরকার এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে ব্র্যাক নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা প্রদান শুরু করে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্র্যাক সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং করোনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শুকনো খাবার ও স্যালাইন বিতরণ করে। এছাড়াও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ— এই সাতটি জেলার ৫০ হাজার পরিবারকে ২০০০ টাকা করে নগদ সহায়তাও  দিয়েছে সংস্থাটি।

বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিডিআরসিএস ৩৬টি জেলায় এক হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক পাঠিয়ে  ৫ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি পরিবারকে পান করার জন্য পানি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাদ্য এবং নগদ অর্থ সহযোগিতা প্রদান করেছে।

ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর, অশ্বানী রানা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও পরিবারগুলোর প্রতি আমরা সহানুভূতিশীল । দুর্যোগের সময় মানুষ তাদের প্রিয়জনদের খোঁজ নিতে ফেসবুক ব্যবহার করেন। অনেকেই দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষদের সাহায্য করতেও ফেসবুক ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের বন্যা কবলিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের চাহিদাগুলো আরও ভালোভাবে পূরণ করতে ব্র্যাক এবং বিডিআরসিএস-এর মতো সংস্থাগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

 

/জিএম/এপিএইচ/

লাইভ

টপ