‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩০, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩২, অক্টোবর ২৯, ২০২০

আইন ও সালিশ কেন্দ্র

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেছেন,বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনও বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সমর্থন করতে পারে না। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত সমসাময়িক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সভায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের মানবাধিকার কর্মী, নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনেরা অংশ নেন। ঢাকাসহ দেশের মোট ২২টি জেলা থেকে প্রায় ৫৫ জন এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কর্ম অভিজ্ঞতার আলোকে নিজ নিজ জেলার মানবাধিকার পরিস্থিতি, কাজ করার ক্ষেত্রে তারা যে যে প্রতিবন্ধকতাগুলোর সম্মুখীন হন, তার ওপর আলোকপাত করেন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছ থেকে তারা কী ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন, তা তুলে ধরেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও নিজস্ব উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি পরিসংখ্যানগত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কারা হেফাজতে মৃত্যু, নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, সীমান্ত সংঘাত, সাংবাদিক হয়রানি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়। বিভিন্ন এলাকার মানবাধিকারকর্মীরা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও হত্যা, মানবাধিকার কর্মীদের হয়রানি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনাগুলো তুলে ধরেন।

মানবাধিকারকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কমিশনের চেয়ারপারসন বলেন, ‘ধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো ঘটনায় কমিশন উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার কোনও বিকল্প নেই।’ তিনি ধর্ষণের শিকার নারীদেরও সাহস যোগানোর জন্য মানবাধিকার কর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের বোঝাতে হবে এক্ষেত্রে তার কোনও দায় নেই। সব দায় বা অপরাধ ধর্ষকের। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি যাতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল সংরক্ষণ করে, সে ব্যাপারে তাদের সচেতন করতে হবে।’ তিনি কমিশনের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় গণশুনানি’ আয়োজন করে ধর্ষণের মূল কারণ উদঘাটন এবং এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানান।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষ থেকে নির্বাহী কমিটির মহাসচিব নূর খান বলেন, ‘কমিশন ১০ বছর শেষ করেছে। ফলে মানবাধিকার কর্মীদের সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক। কমিশন মানবাধিকার কর্মীদের আশ্রয়স্থল। সরকারের সঙ্গে মানবাধিকারকর্মীদের সেতুবন্ধন তৈরি করে দেওয়া তাদের কাজ।’ তিনি প্রত্যাশা করেন, কমিশন নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তার দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করার চেষ্টা চালাবে।

 

/জেইউ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ