দীপন হত্যার পাঁচ বছর: মামলার নিষ্পত্তি হবে কবে?

Send
তোফায়েল হোছাইন
প্রকাশিত : ১৪:৫৯, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২১, অক্টোবর ৩১, ২০২০

দীপন হত্যা মামলা

জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় বিচার পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় হত্যা করা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে। ওইদিনই দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময়েও ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে হতাশ বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তারপরও দীপনের বাবার দাবি, মামলাটি যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়। রাষ্ট্রপক্ষও আশা করছেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এমনকি এই বছরের মধ্যেই রায় ঘোষণা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট টাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম ছারোয়ান খান জাকির বলেন, ‘মামলাটির বিচারের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। আশা করছি, বিচারক এই বছরের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে পারবেন। রায়ে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আশা করছি।'

বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ জানান, অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ার পর যতটুকু সময় গেছে তা পদ্ধতিগত কারণে। এরপর ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বিচারকার্যক্রম বন্ধ ছিল। আশা করছি এ বছরই রায় ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
এদিকে মামলা সম্পর্কে নিহত দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল বলেন, 'পাঁচ বছর আগে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার বিচারের তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। আমি আশা করি মামলাটি যেন আদালত দ্রুত নিষ্পত্তি করে।'

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৮ জানুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়। এরপর ওই বছরের ১৯ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামি মেজর জিয়া ও আকরামের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

গত ২০১৯ সালের ১৬ মে তাদের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ এবং ৩০ জুন মামলার পলাতক আসামি মেজর জিয়াউল হক জিয়া ও আকরাম হোসেনকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন আদালত। এরপর ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর সব (আট জন) আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলাটিতে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন আদালত। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

এই মামলার আসামিরা হলো- মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহক, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে স্বাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার ও শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের।

এদের মধ্যে মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহক পলাতক রয়েছে। বাকিরা কারাগারে।

এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, 'মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। আশা করছি রায়ে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবে।'

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় হত্যা করা হয় জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করেছেন। 

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ