সম্পদের পাহাড় গড়া স্বাস্থ্যের সেই কর্মচারী বাধ্যতামূলক অবসরে

Send
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ২৩:৩০, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩১, অক্টোবর ৩১, ২০২০

আক্তারুজ্জামান খাঁনচতুর্থ শ্রেণিরর কর্মচারী হয়েও লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা আইইএম ইউনিটের প্রজেকশনিস্ট আক্তারুজ্জামান খাঁনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর। এর আগে তার দুর্নীতি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হেমায়েৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আক্তারুজ্জামান খাঁনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ওই দিন সকালেই আক্তারুজ্জামানকে নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন-এ ‘স্বাস্থ্যে লুটপাট: সম্পদের পাহাড় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আক্তারুজ্জামানের!’ শিরোনামে ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সূত্র জানায়, প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে আক্তারুজ্জামানকে বাঁচাতে অধিফতরের যে শীর্ষ কর্মকর্তা চেষ্টা করছিলেন, তিনি আর ঝুঁকি নিতে চাননি। এই কারণে ওই দিনই তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ জারি করা হয়।

আক্তারুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩(খ) ও (গ) বিধি মোতাবেক অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে গত ৮ জুলাই প্রথম কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। আক্তারুজ্জামান সেই নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ বিধি ৭(৪) মোতাবেক তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এই কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রস্তাব করা হয়।

পরবর্তীতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১-এর ৭(৯) বিধি মোতাবেক দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়। আক্তারুজ্জামান দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশেরও জবাব দেননি। পরে বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য রেকর্ড পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর বিধি ৪(৩) (খ) ধারা মোতাবেক আক্তারুজ্জামানকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির তারিখ অর্থাৎ ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আক্তারুজ্জামান খাঁন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এই বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ মানি না। আমি এর বিরুদ্ধে আপিল করবো।’

এদিকে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি অনুসন্ধান শেষে খুব শিগগিরই তার বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। অপরদিকে আরেক সূত্রে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের আইইএম ইউনিট থেকে নথি চুরির অভিযোগে আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি ফৌজদারি মামলা করবে।

প্রসঙ্গত, আক্তারুজ্জামান ১৯৯৪ সালে প্রজেকশনিস্ট হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। প্রজেকশনিস্টের কাজ হলো ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলত প্রচারণা করা। প্রথম দিকে অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করলেও গত এক যুগ ধরে আক্তারুজ্জামান অফিসে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজের লোকদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ লুটপাট করে।

অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে আক্তারুজ্জামান রাজধানীর মিরপুরের ১০ নম্বরে একটি ছয়তলা বাড়ি, একই এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, একটি একতলা বাড়ি, পাশের টেক নামে আরেকটি এলাকায় আরেকটি বাড়ি, মিরপুরের সেনপাড়ায় একটি প্লট এবং মিরপুরের হাজি আব্বাস উদ্দিন স্কুলের পাশে ২ কাঠার আরেকটি প্লট কিনেছেন। এছাড়া বাড্ডা এলাকার সুবাস্তু টাওয়ারে ছেলে আসিফ খানের নামে একটি দোকান, গাজীপুরের বোর্ড বাজারে ৩ কাঠার একটি প্লট ও গাজীপুর সদরে তিন কাঠার একটি প্লট কিনেছেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আক্তারুজ্জামান চলাফেরা করতেন নিজস্ব প্রাইভেটকারে। সেই গাড়িটি অবশ্য কিনেছেন শ্যালিকার নামে।

/এনএল/এনএস/

লাইভ

টপ