১১ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১৮ হাজার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫৬ আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:২৯

১১ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ১৮ হাজার

করোনাকালেও নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা প্রতি মাসে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। তাদের দেওয়া হিসাব  অনুযায়ী, চলতি বছররের জানুয়ারি থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে শুধুমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত  মামলার সংখ্যা আনুমানিক ১৮ হাজার ২২১টি। এটি উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী।

সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতনের বর্তমান প্রেক্ষাপট ২০২০: বিশ্লেষণ ও করণীয়’ শীর্ষক  সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় তারা। 

সংবাদ সম্মেলনে সালমা আলী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে করোনার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা প্রতি মাসে ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েছে সারা বিশ্বব্যাপী।  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে  সহিংসতার রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে। এই সহিংসতার প্রধান শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১১টি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। সুপারিশ গুলো হচ্ছে— ধর্ষণের মুখোমুখি নারী ও শিশুদের জন্য সার্বিক আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থা কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করা। দ্রুত বিচার এবং সাক্ষী সুরক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাগুলোর যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করা। তদন্ত কাজ রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সব স্তরে প্রশিক্ষিত কর্মী থাকতে হবে। উচ্চ আদালতে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত সব মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রত বিচার সম্পন্নের জন্য পৃথক কোর্টের ব্যবস্থা করা। মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্নের জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের সামগ্রিক তথ্য ও উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রান্তিক গোষ্ঠীর (প্রতিবন্ধী, হিজড়া) জন্য বৈষম্যহীন আইনি পরিষেবা নিশ্চিত করা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শ্রম পরিদর্শকরা এবং অভিবাসন কর্মকর্তাসহ কর্মকর্তাদেরকে পাচারের মামলার শনাক্তকরণ এবং পরিষেবাগুলোতে প্রশিক্ষণ বাড়ানো। সকল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকরী কমিটি গঠন করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত ২০২০ সকল ধরনের ধর্ষণকে আইনের আওতাভুক্ত করার জন্য পেনিট্রেশন-এর একটি সংজ্ঞা যুক্ত করতে হবে, যাতে করে ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণ অপরাধের মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তির যোনি, মলদ্বার বা মুখে যৌনাঙ্গ পেনিট্রেশনসহ বিভিন্ন বস্তুর বা অপরাধীর শরীরের অন্যান্য অঙ্গের পেনিট্রেশন অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারা এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার বিচারে অভিযোগকারীর চরিত্রগত সাক্ষ্যের গ্রাহ্যতা বন্ধ করতে হবে।

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আরও কমলো সোনা-রুপার দাম, ভরি কত 
আরও কমলো সোনা-রুপার দাম, ভরি কত 
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে তদন্তে উঠে এলো যেসব তথ্য
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে তদন্তে উঠে এলো যেসব তথ্য
এক জেলায় সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতাকর্মী
এক জেলায় সারের ৫৭ ডিলারের ৪৫ জনই বিএনপি নেতাকর্মী
সর্বাধিক পঠিত
এবার ময়ূখের কণ্ঠে উল্টো সুর, প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে
এবার ময়ূখের কণ্ঠে উল্টো সুর, প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেলো
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেলো
থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০
থাইল্যান্ডে ‘সয়েল ফিভারে’ ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭০
‘একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী যুবকের বাবাও ডিবি হেফাজতে
‘একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী যুবকের বাবাও ডিবি হেফাজতে
নভেম্বরে টানা ৩ দিন ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নভেম্বরে টানা ৩ দিন ছুটি পাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান