স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীদের গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ডিপফেক ছবি তৈরির অভিযোগে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এক শিক্ষককে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের নাম আবুসালি রহমান (৩৭)। তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্যালফোর্ডের বাসিন্দা। শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ২১টি যৌন অপরাধের দায় স্বীকার করার পর বোল্টন ক্রাউন কোর্ট তাকে এই কারাদণ্ডাদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুরি, বোল্টন ও স্যালফোর্ডের সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজির খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন আবুসালি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী অন্তত ১৩ জন ছাত্রীকে নিশানা বানান তিনি।
শুরুতে আবুসালি ইন্টারনেট থেকে শিক্ষার্থীদের ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে যৌন উত্তেজক ডিপফেক ছবি তৈরি ও শেয়ার করতেন। পরে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রীদের অজান্তে তাদের গোপন ভিডিও ধারণ (আপস্কার্টিং) করতে শুরু করেন। জামার বুকপকেটে আইফোন রেখে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় কিংবা ক্লাসরুমে ছাত্রীদের অসতর্ক মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করতেন তিনি।
যেভাবে প্রকাশ্যে আসে ঘটনা
২০২৫ সালের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) স্ক্রোল করার সময় এক অভিভাবক তার স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত মেয়ের ছবি দেখতে পান, যা অত্যন্ত আপত্তিকর যৌন উপকরণের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশের ‘অনলাইন চাইল্ড অ্যাবিউজ ইনভেস্টিগেশন টিম’ তদন্তে নামে।
তদন্তকারীরা এক্স অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে আবুসালির সন্ধান পান এবং তাকে গ্রেফতার করে ল্যাপটপ ও মুঠোফোন জব্দ করেন। ফরেনসিক পরীক্ষায় তার ডিভাইসগুলো থেকে বিদ্যালয়ের বারান্দা, শ্রেণিকক্ষ ও প্রাঙ্গণে গোপনে ধারণ করা শতাধিক আপত্তিকর ফুটেজ ও ছবি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক দৃশ্যে ছাত্রীদের মুখমণ্ডল জুড়ে তৈরি করা অসংখ্য ডিপফেক ছবিও পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, ছাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল খুঁজে বের করতে আবুসালি তাদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করতেন। এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি সংগৃহীত এসব ছবি ও ভিডিও পেপ্যালের মাধ্যমে এককালীন ২০ পাউন্ডে বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপনও তৈরি করেছিলেন।
যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সিনিয়র ক্রাউন প্রসিকিউটর আলেকজান্দ্রা মান বলেন, ‘আবুসালি রহমান শিক্ষকতার মতো একটি পেশার চরম অপব্যবহার করেছেন। যেখানে শিশুরা নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করার কথা, সেখানেই তিনি তাদের অজান্তে গোপন ছবি তুলেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের যৌন উত্তেজক ডিপফেক ছবি বানিয়ে তা ছড়িয়েছেন, যা আস্থার চরম লঙ্ঘন। নতুন প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার একটি গুরুতর অপরাধ।’
আদালতে উপস্থাপিত নথিতে দেখা যায়, আবুসালি তার ফোনে ‘ধরা না পড়ে কীভাবে গোপনে ভিডিও করা যায়’ এবং ‘স্পাই ক্যামেরা কোথায় কিনতে পাওয়া যায়’—এসব লিখে অনুসন্ধান করেছিলেন। এমনকি এ ধরনের অপরাধে গ্রেফতার হলে নিজেকে বাঁচানোর সম্ভাব্য আইনি কৌশল নিয়েও তিনি আগেভাগে খোঁজখবর করেছিলেন।