জন্মের পর নবজাতকের নাম রাখা পিতা-মাতার দায়িত্ব এবং তা তাদের ওপর সন্তানের অধিকারও বটে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সন্তানের সুন্দর নাম রাখা এবং তার তারবিয়াত ও উত্তম চরিত্র গঠনের ব্যবস্থা করা বাবার ওপর সন্তানের অধিকার (মুসনাদে বাজজার (আলবাহরুজ জাখখার), হাদিস নং ৮৫৪০)। তবে এতে এও বোঝা যায় সন্তানের নাম আরবিতে রাখার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
তবে প্রতিটি মুসলিমের ইসলামসম্মত নাম হওয়া বাঞ্ছনীয়। বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে কেউ যদি বাজে অর্থ আছে এমন নাম নির্ধারণ করেন, তবে তা শরিয়ত পরিপন্থী। নাম অসুন্দর ও অর্থগত দিক থেকে আপত্তিকর হওয়ার কারণে নবীজী (সা.) কিছু সাহাবির নাম বদলে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রেখেছিলেন।
যেমন- এক সাহাবির নাম ছিল আব্দুল হাজার। এর অর্থ পাথরের বান্দা। নবীজী তাকে ডেকে বললেন, তুমি আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা)। (আলআদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৮১১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং ২৫৯০১)।
একইভাবে এক নারী সাহাবির নাম ছিল ‘আ-ছিয়াহ’। যার অর্থ অবাধ্য-নাফরমান। তখন নবীজী (সা.) তার নাম রাখলেন ‘জামিলা’। যার অর্থ ‘সুন্দরী’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৩৯)।
সন্তানের নাম রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই সুন্দর ও অর্থবহ নাম নির্বাচন করা আবশ্যক। কেননা, হাশরের ময়দানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের ও পিতার নামসহ ডাকা হবে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে- অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখো (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৪৮)।
মহানবী (সা.) আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমানসহ এ জাতীয় নাম এবং রাসুলদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, তোমরা নবীগণের নামে নাম রাখো এবং আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হচ্ছে আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমান। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস নং ৪৯৫০)
তথ্যসূত্র: আলকাউসার মার্চ ২০১৯ সংখ্যা, মার্চ ২০১৬ সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৬ সংখ্যা।








