একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তাকে তা না দেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চাইতে পারে বিএনপি। তবে এর আগে বিষয়টি নিয়ে আইজি প্রিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা কোর্টে যাওয়ার বিষয়ে মতামত রয়েছে দলটিতে।
শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে বিষয়গুলো উঠে আসে। এ ব্যাপারে দলের কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করে কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি জানা যায়। তাদের ভাষ্য, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া জেল কোড অনুযায়ী যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা, তা তাকে দেওয়া হচ্ছে না। একটি নির্জন কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে নাজিমউদ্দিন রোডের সাবজেলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন খালেদা জিয়া।
বৈঠকের মাঝপথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা শুনে বিস্মিত হবেন, তাকে সম্পূর্ণ নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। পরিত্যক্ত যে কেন্দ্রীয় কারাগার ছিল, যেটাতে এখন কেউ বাস করে না, যার ঘরবাড়িগুলো পড়ে যাচ্ছে, স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে, সেই কারাগারে তাকে সম্পূর্ণ একা একজন বন্দি হিসেবে রাখা হয়েছে।’
বৈঠক সূত্র জানায়, দ্রুত এ বিষয়টি সমাধান না হলে আগামী দু-একদিনের মধ্যে আইজি প্রিজন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। তবে কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতা জানান, ‘কারা কোড অনুযায়ীই তো ম্যাডাম সুযোগ সুবিধা পাবেন। এর জন্য আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’
এদিকে, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের তত্ত্বাবধানে এ কাজটি শনিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল গত শুক্রবারই জানিয়েছেন, রবিবার থেকে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা ভালো না। তিনি একা বাথরুমে পর্যন্ত যেতে পারেন না। সেখানে তার গৃহকর্মীকে সঙ্গে নিতে দেওয়া হয়নি। বলা হচ্ছে, জেলে ডিশ অ্যান্টেনা, নরম বিছানা দেওয়া হয়েছে। এগুলো সবই মিথ্যা। তাকে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ অবস্থায় রাখা হয়েছে।’
এই নেতা আরও বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও এসব সুবিধা ছিল। কিন্তু এখন তা দেওয়া হচ্ছে না। আর এ কারণেই দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টির সমাধান চাওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়ে মহাসচিব বলবেন।’
পাঁচ নেতার সঙ্গে একান্তে কথা হয়নি খালেদা জিয়ার
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ নেতা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও তার সঙ্গে একান্তে কোনও আলোচনা হয়নি তাদের।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দলের পাঁচ সিনিয়র আইনজীবী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার আব্দুর রেজ্জাক খান।
শনিবার রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা পাঁচ আইনজীবী তার সঙ্গে আইনি বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন।
পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ম্যাডামের কোনও একান্ত কথা হয়নি। সেখানে জেলের ৪-৫ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ওই অবস্থাতেই কথা বলতে হয়েছে।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন জানতে চাইলে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শরীরের অবস্থা খুব একটা ভালো না। তবে মানসিকভাবে তিনি দৃঢ় আছেন, শক্ত আছেন। তার মনোবল সাংঘাতিক।’








