জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেয়েছেন এ মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামানের কার্যালয় থেকে তাকে এ কপি সরবরাহ করা হয়।
আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন এক হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার সার্টিফায়েড কপি সানাউল্লাহ মিয়াকে বুঝিয়ে দেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন বিচারক ৬৩২ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ পড়েন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা রায় খতিয়ে দেখে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবেন। তবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পারবেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করব আগামীকাল আপিলসহ জামিনের আবেদন করতে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল যদি আপিল না করা যায় তাহলে বৃহস্পতিবার (২২ফেব্রুয়ারি) আপিল করবো।’
২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় আদালত বন্ধ থাকবে।
সানাউল্লাহ মিয়া জানান, খালেদা জিয়ার রায় পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি না করেই বিচারক মামলাটি রায় দিয়েছেন। সে জন্য রায়ের কপি পেতে সময় লেগেছে।
দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আদালত আজকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি দিয়েছেন। আমরা এই কপি কমিশনে (দুদক) পাঠিয়ে দেবো। কমিশন রায়ের কপি নিয়ে পরবর্তীতে কী করবে, সেটা আমার জানা নেই। তবে দুদক যে সিদ্দান্ত নেয়, আমি সে মোতাবেক কাজ করবো।’
এই মামলায় ১১টি পর্যবেক্ষণ আছে, সে মোতাবেক আদালত রায় দিয়েছেন। এই একই মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আমরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য আদালতে শুনানি করেছি। আদালত আমাদের বলেছেন, আজকে (সোমবার) বিকালে সার্টিফায়েড কপি দেবেন।’
সানাউল্লাহ বলেন, ‘আজকের মধ্যে রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলে আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) উচ্চ আদালত আপিলের আবেদনসহ জামিনের আবেদন করতে পারবো।’
গত ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার কথা থাকলেও রায়ের কপি ৬৩২ পৃষ্ঠা হওয়ায় আদালত সরবরাহ করতে পারেনি।
এর আগে সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রায়ের কপি পেতে সানাউল্লাহ মিয়া তিন হাজার ফলিও জমা দেন বিচারক আখতারুজ্জামানের আদালতে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। সেদিন রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। একমাত্র আসামি হিসেবে তিনি কারাগারের একটি কক্ষে রয়েছেন।








