‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই। কানা ছেলের নাম কখনও পদ্মলোচন হয় না। ড. কামাল হোসেন সাহেব এর আগেও বহুবার জোট করেছেন, ভেঙেও ফেলেছেন। তার জোটে কখনও জনসমর্থন জোটেনি।’ বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকালে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি।
মেনন বলেন, ‘নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাদের নতুন জোট গঠনের কারণ ও লক্ষ্য দেশের মানুষের বুঝতে আর বাকি নেই। প্রতি নির্বাচনেই তারা এরকম জোট গঠন করে তাদের নির্বাচনি মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে থাকে। এবারও তা-ই করছে। এতে তাদের খুশি হওয়ার কোনও সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’
১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে মেনন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছেন ঠিকই, কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আমরা আজও দেখতে পাইনি। জিয়া-মোশতাকই যে এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা, একথা প্রকাশ করার ও বলার সময় এখন চলে এসেছে। জিয়া-মোশতাক ৭৫-এ ষড়যন্ত্রের বীজ রোপণ করেছিল, সেই বীজের ডালপালাসহ বৃক্ষ হচ্ছে বর্তমানের বিএনপি-জামায়াত। কাজেই জিয়া-মোশতাকের পুঁতে যাওয়া বীজের ফসল বিএনপি-জামায়াত যে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিদের উৎখাতে মরিয়া হয়ে কাজ করবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন এদেশের মাটিতে আর কখনও পূরণ হবে না। কারণ, দেশের জনগণ এখন তাদের আর চায় না।’
তিনি বলেন, ‘কোটা ও শিশুদের সড়ক আন্দোলনে ভর দিয়ে কোনও ফায়দা না পেয়ে এখন তারা জনবিচ্ছিন্ন কিছু নিরীহ মানুষের সঙ্গে ঐক্যের চেষ্টা করছে। এখন তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের নতুন নাম হচ্ছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন ঐক্য গঠন। এই ঐক্য গঠন নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই। কারণ, তারা আগেও যেমন জনবিচ্ছিন্ন ছিল, এখনও ঠিক তাই আছে।’
সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ জুলহাস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওই কলেজের উপাধ্যক্ষ সায়রা বেগম, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আজাদ সরকার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।








