নির্বাচন কমিশন একচোখা নীতিতে আছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঐক্যের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘মাগুরাতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের জামাই আদর করে আপ্যায়নসহ বরণ করেছেন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্য করে বড় ধরনের শোডাউন করছেন।’
মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের শত শত মনোনয়নপত্র ঠুনকো অজুহাতে বাতিল হলেও ক্ষমতাসীনদের মাত্র তিনটি বাতিল হয়েছে। এই সমীকরণ বলছে, নির্বাচন কমিশন কতটা একচোখা নীতিতে আছে।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৬ সহ যে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে সেখানকার ভোটার, প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রার্থীর পোলিং অফিসার বা এজেন্ট এ বিষয়ে কারিগরিভাবে অবগত নন। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন সাহেবের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, তিনি নিজেই এসব ইভিএম আসনের ভোট দিয়ে দেবেন। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য ইসির ক্ষমতা কতটুকু, সে সম্পর্কে তারা নিজেরাও অবগত নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত এক দশকে আলোচিত হত্যাকাণ্ড, গুম, ব্যাংক লুট, সীমাহীন দুর্নীতি আর মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণের যে কালো উৎসব বর্তমান সরকার করেছে, এসব রুখে দিতেই ক্ষমতাসীনদের পুরনো আতঙ্ক হারিকেন প্রতীক নিয়ে এবার নির্বাচনে মাঠে আছে গণঐক্য। বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও এনডিএমের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কেন্দ্র রক্ষা করতে প্রস্তুত। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সদা সজাগ পাহারা, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে বাধ্য করবে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘২৭ তারিখ মধ্যরাত থেকে দুর্নীতিপরায়ণ কোনও ব্যক্তি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে, সে ব্যাপারে জাতিকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের সব প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর হবে গণতন্ত্র রক্ষার প্রত্যক্ষ সংগ্রাম। নীরব ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অপশাসনের অবসান ঘটবে ইনশাল্লাহ।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণঐক্য ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি কুদরত উল্লাহ প্রমুখ।








