একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতেই প্রার্থী দিয়েছিল চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে সর্বাধিক আসনে ভোটযুদ্ধে নেমে দলটির মনোনীত প্রার্থীরা পেয়েছেন ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ ভোট। তবে একজন বাদে বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট ভোটের ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে হাত পাখা। ভোটের হিসেবে তাদের অবস্থান চতুর্থ। তবে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান সবার ওপরে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই নির্বাচন স্বাভাবিক হয়নি। যা আমরা গতকাল ১ জানুয়ারি তুলে ধরেছি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, তাহলে আমরা এক কোটির বেশি ভোট পেতাম।’
বরিশালের একটি আসনের কথা উল্লেখ করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে পটুয়াখালীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমরা একটি জায়গায় ভোট পেয়েছি ৪৫ হাজার। দলীয় প্রতীক হাতপাখায় আমরা নির্বাচন করেই এই ভোট পেয়েছিলাম। সেই জায়গায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের ভোট দেখানো হয়েছে মাত্র সাত হাজার। আমাদের অনেক লোক ভোট দিতে পারে নাই। অনেক ভদ্র মানুষ ভোট দিতে যায় নাই। যারা গিয়েছিল, তারাও অপমানিত, অপদস্ত হয়ে ফিরে এসেছে। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, বেলা ৯টার সময় ব্যালট নাই। এই জাতীয় ঘটনাগুলো ঘটেছে। একারণে আমরা মূলত কম ভোট পেয়েছি। নাহলে আমরা আরও বেশি ভোট পেতাম।’
এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন তফসিলে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বুধবার (২ ডিসেম্বর) বিকালে ইসিতে চরমোনাই পীরের পক্ষে দলটির নেতারা এই চিঠি জমা দেন। চিঠিতে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রসঙ্গত, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি দুটি আসনের মধ্যে গাইবান্ধা-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট পিছিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে তিনটি কেন্দ্রে গণ্ডগোলের কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। ওই তিন কেন্দ্রের ভোট পুনঃগ্রহণের পর আসনটির ফলাফল ঘোষণা করা হবে।







