আ. লীগের চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন নিয়ে ধোঁয়াশা

মাহবুব হাসান
০৫ জুলাই ২০১৯, ০৭:৫০আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৯

আওয়ামী লীগ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ চারটি সহযোগী সংগঠনের কোনোটিতেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কিানও উদ্যোগ নেই। যদিও এসব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বলছেন, তারা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে প্রস্তুতি নেই একটিতেও।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে আগামী অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়। জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠন এবং আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলায় সম্মেলন করারও সিদ্ধান্ত হয়। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর জুন মাসের শেষ সপ্তাহে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

এদিকে জাতীয় সম্মেলনের আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোতে সম্মেলনের কোনও প্রস্তুতি নেই। এই অল্প সময়ে সম্মেলন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সাধারণত আগস্ট মাসে শোকের কর্মসূচি ছাড়া অন্য কোনও কর্মসূচি থাকে না আওয়ামী লীগে। সেই হিসেবে হাতে আছে শুধু সেপ্টেম্বর মাস। এ মাসেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলা শাখার সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে— যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এই চার সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেবল স্বেচ্ছাসেবক লীগ ছাড়া সম্মেলন করতে আগ্রহী নন অন্য তিন সংগঠনের নেতারা।

যুবলীগ

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পর পর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যা ‘ত্রিবার্ষিক সম্মেলন’ নামে পরিচিত। কিন্তু যুবলীগের তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে সাত বছর আগে, ২০১২ সালের ১৪ জুলাই। আওয়ামী লীগের ২০১৬ সালের সম্মেলনের আগে অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন করা হলেও যুবলীগের সম্মেলন বা কমিটি হয়নি। সূত্র জানায়, মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অনীহার কারণেই সম্মেলন হচ্ছে না। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে বা হবে কিনা, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না যুবলীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা। সংগঠনটির অন্তত পাঁচ জন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, কোনও বৈঠক বা সভায় এখনও পর্যন্ত সম্মেলন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।

যদিও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত। দল থেকে চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগ

সংকট রয়েছে দলের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগেও। ২০১২ সালে সর্বশেষ সম্মেলন হয়। এ সংগঠনের দু’জন নেতা জানান, এরইমধ্যে সম্মেলন নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাওছার বলেন, ‘সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ শিগগিরই প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে সম্মেলনের স্থান নির্ধারণ করে রেখেছি।’ এ মাসেই (জুলাই) সম্মেলন হলে ভালো হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষক লীগ

সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। এরপর প্রায় চার বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ায় বর্তমান কমিটি দিয়েই অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কৃষক লীগের কার্যক্রম। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে, তার সঠিত তথ্য নেই সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে। এ নিয়ে কোনও আলোচনাও নেই সংগঠনটিতে।

সম্মেলন নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রস্তুতি আছে। সঠিক সময়েই আমরা সম্মেলন করবো।’ কৃষক লীগের সম্মেলন নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের এত আগ্রহ কেন, উল্টো প্রশ্ন করেন তিনি।

শ্রমিক লীগ

অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের মতো শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক অবস্থাও নড়বড়ে। সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো.সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ পেরিয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। সম্মেলন কবে হবে বা হবে কিনা, তা নিয়ে শ্রমিক লীগে কোনও আলোচনা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনের কয়েকজন নেতা এ তথ্য জানান।

জানতে চাইলে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমনিতেই খুব ভালো আছি। সম্মেলন হলে সাংবাদিকরাসহ সারাদেশের মানুষ তো দেখবেই।’ তিনি বলেন, ‘সময় হলেই আমাদের সম্মেলনের হবে।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘যেসব সহযোগী সংগঠনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, জাতীয় সম্মেলনের আগে সেগুলো সম্পন্ন হবে।’ তিনি বলেন, প্রতিটি সংগঠনই শক্তিশালী সংগঠন। তারা চাইলে এক মাসেই সম্মেলন আয়োজন করতে পারে।’

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
মুক্তি পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
সর্বশেষ খবর
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের