মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানালেও এই আয়োজন নিয়ে লুকোচুরি করেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। তবে, ঘরোয়াভাবে আলোচনাসভা করে অনেকটা দায় সারতে চেয়েছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলো। এই দলগুলোর অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদেরও ডাকা হয়নি। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত-শিবির বিজয় র্যালি করলেও কওমিপন্থী দলগুলো সেদিকে যায়নি। এমনকি বিজয় দিবসের কোনও অনুষ্ঠানও ছিল না এসব দলের। তবে, মুখে-মুখে দোয়া-আলোচনাসভা করার কথা জানালেও সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কার্যালয় ছিল জনশূন্য। বিজয় দিবসের সারাদিন অন্তত ১৫টি ধর্মভিত্তিক দলের কার্যালয় ও কয়েকটি কওমি মাদ্রাসা ঘুরে এ সব চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খেলাফত মজলিসের বিজয়নগরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটির আয়োজন করা হয়েছে মঙ্গলবার। ওই দিন প্রেসরিলিজ দিয়ে খবর পাঠানোর পর বুধবারও একই খবর পাঠানো হয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে কেবল একটি ব্যানার দিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে সভাটি শেষ করা হয়। বিজয় দিবসের দিনে কোনও আয়োজন করেনি খেলাফত মজলিস।
দলটির ঢাকা মহানগরীর প্রচার সম্পাদক মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, তার দল একটি আলোচনা সভা করেছে। এই সভায় দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। এছাড়া, অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলের মহাসচিব মাওলানা মাহফুযুল হক এ সভায় আলোচনা করেন। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ছোট্ট মিলনায়তনে দলের ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, সাধারণত, ধর্মভিত্তিক দলগুলো যেকোনও অনুষ্ঠান প্রেসক্লাব, ডিআরইউ, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন, ডিপ্লোমাসহ নানা জায়গায় আয়োজন করলেও শুধু জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোয় ঘরোয়াভাবে আয়োজন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোট কোনও অনুষ্ঠান করেনি। তবে দলটির মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ জানিয়েছেন, তার দল বিজয় দিবসে শহীদদের জন্য দোয়া করেছে। দেশের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছেন।
ধর্মভিত্তিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা জানান, একটি ওয়াজ মাহফিলের জন্য যে আয়োজন করা হয় জাতীয় কোনও অনুষ্ঠানই এই ধরনের আয়োজনের একভাগও করা হয় না। এটা এক ধরনের অনীহা থেকেই। জাতীয় বিষয়গুলোয় ধর্মভিত্তিক দলগুলো আগ্রহের জায়গাটিও খুব সীমিত। খুব চাপে বা সমালোচনার ভয়ে ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠান করে তড়িঘড়ি করে প্রেস রিলিজ পাঠানো হয়। জাতীয় দিবসগুলো পালনেও কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয় না।
বিজয় দিবসে কোনও আয়োজন করেনি ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাকের পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট জাতীয়ভাবে কোনও আয়োজন করেনি।
এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। দলটি পুরানা পল্টনের হাউজবিল্ডিং এলাকায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছে। বিজয়ের দিনে দুপুর থেকে দলটির মহানগর কমিটির উদ্যোগে এই আয়োজন হয়। নায়েবে আমির ফয়জুল করিমসহ শীর্ষনেতারা অনুষ্ঠানে ছিলেন। পাশাপাশি দলটির সাংস্কৃতিক দল ইসলামী সাংস্কৃতিক জোট ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন ছিল। তবে স্বাধীনতা নিয়ে তেমন কোনও গান ছিল না। এই আয়োজনে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।
কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও আয়োজন না হলেও দলের যুগ্ম মহাসচিব মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানীর নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে তরিকত ফেডারেশন। দলের মহাসচিব এম এ আউয়াল বলেন, আমি এখন নির্বাচনি এলাকায় রয়েছি। কেন্দ্রীয়ভাবে শ্রদ্ধার্পণ করা হয়েছে। তবে কোনও আলোচনা অনুষ্ঠান হয়নি।
ইকরা বাংলাদেশ স্কুলের প্রিন্সিপাল সাংবাদিক মাওলানা মাসউদুল কাদির জানান, ইক্বরা বাংলাদেশের উদ্যোগে সারাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠানে তারা বিজয় দিবস পালন করেছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সন্ধ্যায় প্রেস রিলিজ দেয় একটি বিজয় দিবসের আলোচনা সভার ছবি দিয়ে। তবে প্রেস রিলিজে ছবি থাকলেও বিবৃতিতে রয়েছে গত বছরের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের বক্তব্য ।
খেলাফতে ইসলামী সেগুনবাগিচা কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মিলনায়তনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দলটির নেতা আনসারুল হক ইমরান বলেন, তাদের নবজাগরণ শিল্পীগোষ্ঠী ওই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে। অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান মাওলানা হাসানাত আমিনী ছিলেন।
/এসটিএস/এমএনএইচ/








