আজ মঙ্গলবার বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত নয়া পল্টনের সমাবেশে সর্বোচ্চ জমায়েত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সমাবেশ শান্তিপূর্ণ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের ডেকে নিয়ে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে তিনি প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করারও নির্দেশনা দেন। সোমবার রাতে বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির দুজন সিনিয়র নেতার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া নিজেও সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশে কার বক্তব্যের পরিসর কতটুকু হবে এবং কে কী বলবেন, সে ব্যাপারেও নিজের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন বেগম জিয়া।
সোমবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, ওসমান ফারুক, উকিল আবদুস সাত্তার, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিতির পরিমাণ সর্বোচ্চ করতে বিএনপিসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে বলা হয়েছে। বিএনপির সকল স্তরে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সবগুলো শাখাকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলকেও সমাবেশে সর্বোচ্চ জমায়েত নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ছাত্রদলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মীদের সমাবেশে না আসতে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন সংগঠনের দায়িত্বশীল দুই নেতা।
এ ব্যাপারে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাজই তো গণজমায়েত নিশ্চিত করা। এটা তো গণতান্ত্রিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আর ছাত্রদলের ১ম সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সবগুলো ইউনিটকে বলে দিয়েছি। সবাই সর্বোচ্চ জমায়েত নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হবে। সমাবেশ শান্তিপূর্ণ করতে আমরা শতভাগ চেষ্টা করব।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন উপদেষ্টা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর প্রকাশ্যে রাজপথে জনসমাবেশ করছে বিএনপি। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দল। এ কারণে চেয়ারপারসনের কঠোর নির্দেশ; সমাবেশ সঠিক সময়ে শুরু, সঠিক সময়ে শেষ এবং আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি বজায় রাখতে হবে।’ জানতে চাইলে রাত বারোটার দিকে ভাইস-চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চাই। ম্যাডাম এটাই বলেছেন, সমাবেশ যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।’ প্রবীণ এই বিএনপির নেতা জানান, সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, সমাবেশ কে উপস্থাপনা করবেন, কিভাবে করবেন, নেতারা কতক্ষণ বক্তব্য দেবেন, বক্তব্যের ভাষা কী হবে সেসব নিয়েও ম্যাডাম নিজের মনোভাব নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন।
/এসটিএস/বিএ/








