বুধবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এই মহাসমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, এই সমাবেশ সারাবিশ্বে সাড়া ফেলেছে। মহাসমাবেশ চলাকালে ফেসবুকে কোটি কোটি মানুষ তা শেয়ার করেছেন।’
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের সার্বিক বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আমির খসরু বলেন, ‘আমার নেত্রী গতকাল অনুপস্থিত ছিল। তার অনুপস্থিতি আমরা সবাই অনুভব করেছি। এর আগে ২০১২ সালে আমাদের নেত্রীর উপস্থিতিতে পলোগ্রাউন্ড মাঠে সভা হয়েছিল। বিস্ময়ের বিষয়, অনেকের ধারণা বেগম খালেদা জিয়া যদি গতকাল সমাবেশে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে সারা চট্টগ্রাম জনসভায় পরিণত হতো।’
এ সময় সরকারের সমালোচনা করে আমির খসরু বলেন, ‘এদের রাজনীতি হচ্ছে বাধা দেওয়া। নিজেরা কিছু করতে পারে না, জনগণের কাছে যাওয়ারতো তাদের সুযোগ নেই, তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং বাধাগ্রস্ত করেই তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। গতকাল প্রতিফলন ঘটেছে সেটার, তার আগেরদিনও হয়েছে। কিছু কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে রাতে রেইড করেছে, অনেককে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে গতকাল আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী অনেক জায়গায় আক্রমণ চালিয়েছে।’
অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদের তালিকা করবে বিএনপি
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ্যে মাইকিং করে ঘোষণা দিয়েছেন, যারা বিএনপির সমাবেশে যাবে তাদের মীরসরাই ফিরতে দেওয়া হবে না। জাহাঙ্গীরের নাম তালিকাভুক্ত করা হবে। অতি উৎসাহী পুলিশ অফিসারদের নামের তালিকা করা হবে। আমাদের ছাত্রদলের নেতা সাইফুলের পা কেটে ফেলতে হয়েছে, আমরা মামলা করেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে- যারা আমাদের গণতান্ত্রিক মিটিং-মিছিলে বিনা কারণে, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো। কোনও কারণ ছাড়া আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে ভাঙচুর করে, গণতান্ত্রিক মিছিল-সমাবেশে বাধা দেয় আমরা এবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।’
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণসমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীমের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহম্মেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ভিপি জয়নাল আবেদীন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, তরিকুল ইসলাম তেইনজিং, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ।









