আজ শনিবার (২২ জুলাই) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশকে সফল করতে রাতেই উপস্থিত হয়েছেন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। শুক্রবার (২১ জুলাই) রাতে প্রতিবেদনটি লেখার আগ পর্যন্ত দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা দল বেধে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছেন।
সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসা নেতাকর্মীরা কেউ ঘাসের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ সহকর্মীদের নিয়ে গল্প করে বাদাম খাচ্ছেন, কেউ বা মাঠেই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা একের পর এক সমাবেশ স্থল পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কীভাবে সমাবেশ সুন্দর হবে সেই উদ্দেশে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
তারুণ্যের সমাবেশে বগুড়া থেকে আসা ইসরাফিল নামের যুবদলের এক কর্মী জানান, গত মাসে আমাদের বগুড়ায় তারুণ্যের সমাবেশে হয়েছে। অনেক বাধা এসেছে কিন্তু কোনও বাধাই বগুড়ায় তারুণ্যের সমাবেশ ঠেকাতে পারেনি। শনিবার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমাবেশ হতে যাচ্ছে। এখানে আসতেও অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু তা উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়েছি।
যুবদলের এ কর্মী আরও বলেন, আমরা আমাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সমাবেশে অংশগ্রহণ করছি। বিগত এক দশকে আমরা যে অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম, সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছি। আমি এবং আমার বন্ধুবান্ধব ও সংগঠনের আরও নেতাকর্মীসহ বিভাগীয় পর্যায়ের সবগুলো তারুণ্যের সমাবেশে অংশ করেছি। ভবিষ্যতেও অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেকোনও সমাবেশ বা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত আছি।
মাসুম বিল্লাহ নামের স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী বলেন, এই সমাবেশে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসেছি। কারণ পূর্বের অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। আমাদের যেকোনও আন্দোলন বা সমাবেশে সরকার বাধা দেয়। হয় ঠিক মতো যানবাহন পাই না, নয়তো ঢাকায় ঢুকতে গ্রেফতার করে। জেলের ঘানি টানতে টানতে এখন আর সরকারের রক্ত চক্ষুকে ভয় পায় না। তারুণ্যের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের সামর্থ্যের জানান দেবো এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন সংগ্রাম করবো।
তারুণ্যের সমাবেশ সম্পর্কে ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, তারুণ্যের সমাবেশ ডাকার মূল উদ্দেশ্য দেশে যে ৪ কোটি ৭০ হাজার নতুন ভোটার আছে, যারা গত ১০-১২ বছর জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় কোনও নির্বাচনেই তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, সেসব ভোটারদেরকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা। আমরা ইতোমধ্যে পাঁচটা বিভাগীয় শহরে তারুণ্যের সমাবেশ সফল করেছি। সেইসব সমাবেশে লাখো তরুণ অংশগ্রহণ করেছে এবং আমরা তাদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে অবগত করেছি। আমরা যেহেতু ছয়টি তারুণ্যের সমাবেশের কথা বলেছি এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সমাবেশ এটি। আমরা আশা করছি এই সমাবেশের মধ্যে দিয়ে তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে। এবং ভবিষ্যতে কী কর্মসূচি হবে সেটা তারুণ্যের সমাবেশের পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।








